স্বাস্থ্য ডেস্ক
চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে সারা দেশে হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। মূলত যেসব শিশু এখনও হামের টিকা গ্রহণ করেনি, তারাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে—এমন বাস্তবতার প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগ নিয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এই ঘোষণা দেন।
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী জানান, দেশে হামের বর্তমান প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে সরকার অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ে টিকা পায়নি বা টিকাদান কর্মসূচির বাইরে রয়ে গেছে, তাদের টিকাদানের আওতায় আনতে এই বিশেষ ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শুধু শহর বা জেলা পর্যায়ে নয়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও এই টিকাদান কার্যক্রম সমানভাবে পরিচালনা করার আশ্বাস দেন তিনি। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাঠপর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করার এবং প্রতিটি শিশুর টিকাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন।
হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি চিকিৎসাসেবার বর্তমান মান, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা এবং হাসপাতালের সামগ্রিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সেবামূলক অভিজ্ঞতার খোঁজ নেন এবং চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা খাতের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। চিকিৎসকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি সরকারের উচ্চ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। এই লক্ষ্যে চিকিৎসকদের সুরক্ষায় একটি যুগোপযোগী আইন প্রণয়নের কাজ চলমান রয়েছে, যা খুব দ্রুত বাস্তবায়িত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা চিকিৎসক ও নার্স সংকট নিরসনে বড় ধরনের উদ্যোগের কথা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী তিন মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিসরে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ দেওয়া হবে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তৃণমূল পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে জনবল ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও গতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।


