বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ছে, বলেন তিনি।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ ও প্রতিবাদের মধ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলছেন, ‘জাতির বৃহত্তর স্বার্থে’ জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন হচ্ছে।
তার ভাষ্য, “জাতির বৃহত্তর স্বার্থ, অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারকে সামনে রেখে ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি বা জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা হচ্ছে।”
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত। তাই বন্দর ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়, দক্ষতা ও কার্যকর কৌশল নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।”
তিন দিন আগে বৃহস্পতিবার এনসিটি পরিচালনায় দুবাইভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সই করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
ইনভেস্ট বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে চুক্তিটি সই হওয়ার আগে বাইরের সড়কে বিক্ষোভ করছিল বামপন্থি কয়েকটি সংগঠন।
এর আগে জুনে বিএনপি সরকার ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলে চট্টগ্রামে বন্দর শ্রমিকদের সংগঠনসহ কয়েকটি সংগঠন বিরোধিতায় নামে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়া প্রায় শেষ করে আনা হয়। তবে মুহাম্মদ ইউনূসের সে সরকার শেষ মুহূর্তে চুক্তির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও এনসিটি পরিচালনার ভার বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হয়।
রোববারের সেমিনারে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কর্তৃত্ব ও দায়িত্বকে খাটো করে দেখা যাবে না।
“বরং সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ, সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী, আমদানি-রপ্তানিকারক এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।”
এ উদ্যোগে জাইকা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন বলে তথ্য দেন শেখ রবিউল।
মন্ত্রী বলেন, “জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। কোনো মন্ত্রণালয় বা সংস্থার নিজস্ব কর্তৃত্ব, দায়িত্ব কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থান যেন সমন্বিত উদ্যোগের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
“তবে এর অর্থ কোনো কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব বা কার্যক্রমের পরিধি উপেক্ষা করা নয়। বরং বিদ্যমান দায়িত্ব ও কাঠামোর মধ্যে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।”
তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এসব বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে সব পক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।
মন্ত্রীর ভাষায়, “বাংলাদেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন বন্দরের কন্টেইনার পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
“এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতে হলে বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে।”
আন্তর্জাতিক বন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ রবিউল বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ছে।
ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পেতে হলে সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।”
বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে শুধু আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমই সহজ হবে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ‘ইতিবাচক প্রভাব পড়বে’ বলে দাবি তার।
সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের জন্য একটি ‘কার্যকর’ ও 'সমন্বিত' জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, “এ কৌশল দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার এবং জাতীয় অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাহাশি জুনকো।
‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর আত্মকথা’ লিখতে চেয়েছিলাম
তৌফিক ইমরোজ খালিদী ও মুক্ত সংবাদমাধ্যমের অসমাপ্ত লড়াই
কেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ওরফে ‘রঠা’কে নিষিদ্ধ করা জরুরি?
তৌফিক ইমরোজ খালিদী: সম্পাদকের রেখে যাওয়া আলো

