মেকআপ করা ও ঘরের কাজের কারণে পুরুষ রাজনীতিকদের তুলনায় বেশি সময় কাজ করতে হয় বলে জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেছেন, পুরুষ প্রধানমন্ত্রীর তুলনায় তাকে 'তিন থেকে চার ঘণ্টা বেশি' কাজ করতে হয়।
তার এই মন্তব্যের পর জাপানে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বুধবার পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে তিনি বলেন, 'সকালে আমি গোসল করি, নাশতা তৈরি করি ও বাসন ধুই, এরপর মেকআপ করি।'
তিনি বলেন, 'এসব কাজ করতে গিয়ে আমার মনে হয়, পুরুষ প্রধানমন্ত্রীরা এসব কাজে যতটা সময় দেন, তার চেয়ে আমার তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় বেশি ব্যয় হয়।'
অতিরিক্ত কাজ করতে অভ্যস্ত হিসেবে পরিচিত তাকাইচি বলেন, ক্যামেরার সামনে যাওয়ার আগে মেকআপ করে নিজেকে আরও পরিপাটি করে তুলতে তার বাড়তি সময় লাগে—এ বিষয়টি অনুধাবন করতে তার সহযোগীদের কিছুটা সময় লেগেছিল।
জাপানে এখনও লিঙ্গভিত্তিক ভূমিকার বিভাজন বেশ কঠোর। দেশটিতে পুরুষদের দীর্ঘ সময় কাজ করা স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, কর্মজীবী নারীদেরও ঘরের কাজ ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব সামলাতে হয়।
দেশটির সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নারীরা প্রতিদিন ঘরের কাজে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ব্যয় করেন। বিপরীতে, গড়ে একজন পুরুষ এসব কাজে ব্যয় করেন প্রায় ৪০ মিনিট।
সন্ধ্যা পর্যন্ত এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করার জন্য পরিচিত তাকাইচি এ বছরের শুরুর দিকে তার আদর্শ ব্যক্তিত্ব মার্গারেট থ্যাচারের চেয়েও কম ঘুমানোর কথা গর্ব করে বলেছিলেন।
আইনপ্রণেতাদের এক কমিটির বৈঠকে তিনি বলেন, 'এখন আমি প্রায় দুই ঘণ্টা ঘুমাই, সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা। সম্ভবত এটি আমার ত্বকের জন্য খারাপ।'
তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে কোনোদিন একেবারেই না ঘুমানো থেকে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা ঘুমানোই এখন তার কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।'
২০২৫ সালের অক্টোবরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর দায়িত্ব গ্রহণের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, আমি 'কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য' কথাটি বাদ দেব এবং কাজ করব, কাজ করব, কাজ করব—কাজ চালিয়ে যাব।'
তাকাইচি এর আগে আরও বলেছিলেন, তার স্বামী ও সাবেক রাজনীতিক তাকু ইয়ামামোতো রান্নার কাজ করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়ামামোতো স্ট্রোক করেছিলেন।
নিজেকে 'জাপানের লৌহমানবী' হিসেবে অভিহিত করা তাকাইচি গত বছর রাত ৩টায় বৈঠকের জন্য সহযোগীদের কার্যালয়ে ডেকে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন।
তার কঠোর কর্মনিষ্ঠার কারণে কর্মীদের আরও দীর্ঘ সময় কাজ করতে হতে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কর্মীদের কাজের পরিবেশে কোনো পরিবর্তন আনা হলে তাদের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তাকাইচি নিয়মিত বাড়িতে কাজ করার জন্য নথিপত্রের মোটা স্তূপও সঙ্গে নিয়ে যান।
তিনি বলেন, 'রাত জেগে এসব পড়তে আমার ভালোই লাগে।'
তিনি আরও বলেন, 'সত্যি বলতে, আমার মনে হয় জাপানের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে বসে চিন্তা করার বা একটি বৃহৎ পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় বের করা সহজ নয়।'
তাকাইচির জোটের শরিক দলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ফুমিতাকে ফুজিতা বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
তিনি পরামর্শ দেন, মন্ত্রীদের প্রায় প্রতিদিন অংশ নিতে হয়—এমন দীর্ঘ পার্লামেন্ট অধিবেশনের সময় কমানো উচিত।
ফুজিতা বলেন, রাজনৈতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান এনএক্সজেআই রিসার্চের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ৭২ দিন পার্লামেন্টের অধিবেশনে অংশ নিয়েছিলেন। এর বিপরীতে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অংশ নিয়েছিলেন ৫০ দিন এবং জার্মানির নেতা ১৩ দিন।
প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে রাঁধুনি ও অন্যান্য গৃহকর্মী নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রধানমন্ত্রী সরকারি দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দিতে পারেন এবং পর্যাপ্ত ঘুমাতে পারেন।
While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

