এমটিনিউজ২৪ ডেস্ক : প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। সোমবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ঘোষণা দেন—আজ দুপুর ২টায় সংবাদ সম্মেলন করে তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন।
সেই সঙ্গে তিনি পোস্টে বলেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’
গত শনিবার আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেন ইশরাক হোসেন। এ ঘটনার পর গতকাল রবিবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এদিন বিকেলে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ইশরাক হোসেনকে ডেকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশ দেন বলে রাতে খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে ইশরাক হোসেন বিষয়টিকে ‘গুজব ও ভিত্তিহীন’ বলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় দাবি করেন।
পরে রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে দেওয়া এক পোস্টে তিনি পদত্যাগের ইঙ্গিত দেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে মন্ত্রিপরিষদের যেকোনো সদস্যের প্রতি পদত্যাগ অথবা অন্য যেকোনো নির্দেশ আসার সঙ্গে সঙ্গে সেটি কার্যকর করা প্রথাগতভাবে বাধ্যতামূলক অথবা সংক্রিয়ভাবে তা কার্যকর হয়ে যায়।
অতএব এসংক্রান্ত কোনো তথ্য তৃতীয়, চতুর্থ অথবা আরো দূরবর্তী কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে যাচাই করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় অথবা আমার ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ে সংবাদ সম্মেলন করে দেশবাসীকে বিস্তারিত জানানো হবে ইনশাআল্লাহ।’
এরপর আজ সকাল ৮টা ৩৬ মিনিটে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আজ দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেব এবং সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবো, ইনশাআল্লাহ।’
তিনি আরো লিখেন, ‘ফেসবুকে কিছু সুশীল মানুষকে উল্লাসসূচক লেখালেখি করতে দেখলাম। আশা করি, ভবিষ্যতে কখনো আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে তারা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিদেশ থেকে দেশে এসে সেই আন্দোলনে যোগ দেবেন।’
পোস্টে ইশরাক উল্লেখ করেন, ‘এবার সংসদ সদস্য বা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন বিএনপির কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে শতগুণ বেশি উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।’
পরিশেষে তিনি আরো লেখেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরো জোরদার হবে। দেশব্যাপী প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা সফর করতে পারব। মন্ত্রী নয়, মাদক নির্মূল! মাদক নির্মূল, মাদক নির্মূল!’

