২০১৩ সালে মতিঝিল শাপলা চত্বরে তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে

২০১৩ সালে মতিঝিল শাপলা চত্বরে তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ২৭ জুলাই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে

আইন ও আদালত ডেস্ক

২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ কেন্দ্র করে সংঘটিত তাণ্ডব ও গণহত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা শেষে আগামী ২৭ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে। মামলা তদন্ত সংস্থার জমা দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন দল এটি প্রস্তুত করছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধান প্রসিকিউটর জানান, শাপলা চত্বরের ঘটনাটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম একটি কালো অধ্যায়। তৎকালীন সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচালিত যৌথ অভিযানে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠে আসে। এ সংক্রান্ত তদন্ত সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে ওই সময়ের ঘটনা, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি, মেডিকেল রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করেছে। তদন্ত সংস্থা ইতোমধ্যে তাদের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন টিমের কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে নথিপত্র আইনি কাঠামোর আওতায় এনে আসামি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের বিবরণ তৈরি করা হচ্ছে।

নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন, ঘটনাটিতে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ পেশের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত বিচারিক প্রক্রিয়ার মূল কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। অভিযোগপত্রে কার কী ভূমিকা ছিল এবং অপরাধের ধরন কেমন ছিল তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হবে। বিচার প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ মানদণ্ডে পরিচালিত হয়, সে লক্ষ্যে আইনগত প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

উলেখ্য, ২০১৩ সালের মে মাসে ধর্মীয় অবমাননা বন্ধসহ ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম শাপলা চত্বরে অবরুদ্ধ কর্মসূচির ডাক দেয়। পরবর্তীতে রাতের অন্ধকারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযানে স্থানটি খালি করা হয়। এ সময় ব্যাপক সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা নিয়ে পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে নানা বিতর্ক ও তদন্তের দাবি ওঠে। বিগত সরকারের মেয়াদে এই অপরাধের নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত হয়নি বলে অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ট্রাইব্যুনালে নতুন করে তৎকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধগুলোর বিচার কাজ ত্বরান্বিত করার উদ্যাগ নেওয়া হয়।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, শাপলা চত্বরের ঘটনার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা একটি স্পর্শকাতর বিষয়ের আইনি বিচার নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে। আদালতের এই পদক্ষেপ শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী ২৭ জুলাই অভিযোগপত্র ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ার পর আদালত পরবর্তী আদেশ ও শুনানির দিন নির্ধারণ করবেন।

আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ