জরুরি ডিজেল আমদানির সিসিইএ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব

জরুরি ডিজেল আমদানির সিসিইএ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব

অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিটিপি) ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে পিছিয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে চূড়ান্ত প্রস্তাব উপস্থাপিত না হওয়ায় এই নীতিগত অনুমোদন ঝুলে গেছে। এতে নির্ধারিত সময়ে ডিজেল আমদানির কার্যক্রম কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত বুধবার অনুষ্ঠিত সিসিইএ বৈঠকে উত্থানের জন্য জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ মোট ১৫টি প্রস্তাবের কাগজপত্র আগেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠায়। তবে বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলদের অনুপস্থিতি বা অন্যান্য জটিলতায় প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের জন্য পেশ করা হয়নি। বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, এই ১৫টি প্রস্তাবের বিপরীতে মোট ১৭ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (পিপিআর) অনুযায়ী, দরপত্র ছাড়া সরাসরি কেনাকাটা করতে গেলে সিসিইএ কমিটির নীতিগত অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সাম্প্রতিক ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতসহ সার্বিক বিশ্ব ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তড়িঘড়ি সরাসরি কেনাকাটার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ই-মেইলে বা প্রয়োজনে ভার্চ্যুয়াল সিসিইএ বৈঠকের মাধ্যমে অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকার চাইছে আমদানির সব প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করে ডিজেলের সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখতে।

প্রস্তাবিত ক্রয়ের বিবরণ অনুযায়ী, বিশ্ববাজারের বিভিন্ন ওমান, নাইজেরিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, কাজাখস্তান, দুবাই ও চীন ভিত্তিক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এই ডিজেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাবে ১ লাখ ২৫ হাজার টন, একটিতে ৫০ হাজার টন এবং বাকি ১৩টি প্রস্তাবে ১ লাখ টন করে মোট ১৬ লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

আমদানিকৃত ডিজেলের মূল্য চূড়ান্ত হবে ‘বিল অব লেডিং’ তারিখে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্ল্যাটস (আরব গালফ) দর ও বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওপর ভিত্তি করে। ফলে বাজারমূল্যের ওঠানামার ওপর নির্ভর করে মোট ব্যয়ের পরিমাণে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে।

প্রস্তাবিত আমদানির মধ্যে সর্বনিম্ন ব্যয় ধরা হয়েছে ওমানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এনার্জি মাল্টিনেক্স কনভারেন্স টেকনোলজিস এলএলসি’ থেকে ৫০ হাজার টন ডিজেল ক্রয়ে, যার আনুমানিক ব্যয় ৬৬৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর সর্বোচ্চ ব্যয়ের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘একেএ এনার্জি লিমিটেড’ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টন ডিজেলের জন্য ১ হাজার ১৭০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা এবং চীনভিত্তিক ‘ওকেরিয়েল করপোরেশন’ থেকে ১ লাখ টন ডিজেলের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।

অন্যান্য আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীদের মধ্যে নাইজেরিয়ার ‘প্যাসিফিক সিলভারলাইন লিমিটেড’ (১,২২৫.৪৭ কোটি টাকা), অস্ট্রেলিয়ার ‘টোটাল ট্রেডিং ইন্টারন্যাশনাল’ (১,২৮৩.৩১ কোটি টাকা), সিঙ্গাপুরের ‘সিটিজামান ইন্টারন্যাশনাল’ (১,২৬১.৩২ কোটি টাকা) এবং হংকংয়ের ‘সাইনোপ্রাউড ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট’ (১,১১২ কোটি টাকা) অন্যতম। এছাড়া সিঙ্গাপুরের ‘হেলথ আইকন ইন্টারন্যাশনাল’ ও কাজাখস্তানের ‘কুমারাঙ্গাজি ওয়েল ফিল্ড’ থেকে ১ লাখ টন করে ডিজেল কিনতে ৯৩৬ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে।

নতুন ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের চেয়ে তুলনামূলক কম দামে জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাব প্রদানকারী কিছু প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বাজারে আলোচনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সব যোগ্য প্রতিষ্ঠানকে সমান সুযোগ দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। আমদানির নীতিগত অনুমোদন পাওয়ার পরপরই চুক্তি সই ও ঋণপত্র (এলসি) খোলার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ