জাতীয়ভাবে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশুদের পুনর্বাসনে কর্মসূচি পালনের প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

জাতীয়ভাবে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশুদের পুনর্বাসনে কর্মসূচি পালনের প্রতিশ্রুতি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ডেস্ক

জন্মগত ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা শিশুদের চিকিৎসার আওতায় এনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দিতে জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মিশনে অংশ নেওয়া বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় এই চিকিৎসাসেবা দেশের প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নেবে সরকার।

রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘স্মাইল এশিয়া’র ৮ম আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডশিপ মেডিকেল মিশন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা ব্যাংক ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত ‘নতুন হাসির অঙ্গীকারে’ শীর্ষক এই কর্মসূচির সফল সমাপ্তি উপলক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়।

আয়োজক সূত্র জানায়, যৌথ উদ্যোগের এই বিশেষ মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে জন্মগতভাবে ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যায় আক্রান্ত ৬৯ জন শিশুকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আধুনিক ও জটিল অস্ত্রোপচার সেবা প্রদান করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনের অভিজ্ঞ চিকিৎসক, অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও দক্ষ নার্সিং দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল সফলভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের অবকাঠামোগত সুবিধা ব্যবহার করে এই জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পাদন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ঠোঁটকাটা ও তালুকাটা সমস্যা শুধু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নয়, বরং এটি একটি শিশুর মানসিক বিকাশ ও সামাজিক জীবনকে ব্যাপকভাবে ব্যাহত করে। সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে এসব শিশুরা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। কিন্তু সচেতনতার অভাব এবং চিকিৎসার উচ্চব্যয়ের কারণে অনেক দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয় না। দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত দল এসব শিশুর মুখে হাসি ফিরিয়ে এনে তাদের জীবনের ধারা পরিবর্তন করে দিয়েছে।

বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আগামীতে এ ধরনের মিশন পরিচালিত হলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সমন্বিত উদ্যোগ নেবে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী এটিকে একটি জাতীয় কর্মসূচির রূপে প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যাতে নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাইরেও সারা দেশের সুবিধাঅঞ্চলিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী একই চিকিৎসার সুযোগ লাভ করতে পারে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তারা উল্লেখ করেন, জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মানো শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক পুনর্বাসনে সরকারি-বেসরকারি যৌথ অংশীদারিত্ব (পিপিপি) অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা বৃদ্ধি করা গেলে দেশীয় হাসপাতালেই এ ধরনের আধুনিক চিকিৎসা সেবা স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আ. রাজ্জাক সরকার, ঢাকা ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওসমান এরশাদ ফয়েজ, সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদা ফিজ্জা কবির এবং স্মাইল এশিয়ার মহাসচিব অভিমন্যু তালুকদারসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ