জাতীয় ডেস্ক
কে প্রকৃত সাংবাদিক আর কে নন, তা নির্ধারণে একটি যথাযথ কর্তৃপক্ষের উপস্থিতি অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা আনয়ন এবং ভুয়া সাংবাদিকতা রোধে একটি সুস্পষ্ট নীতিগত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
সভায় অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যদের প্রতি সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিদ্যমান বিধি-বিধানের আলোকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের তাগিদ দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন সম্পর্কিত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং উদার মানসিকতা বজায় রাখা আবশ্যক, যাতে সরকারের পদক্ষেপসমূহ সার্বজনীন ও সর্বজনগ্রাহ্য হয়।
রাজনৈতিক ও পেশাগত দায়বদ্ধতার বিষয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি নির্বাচিত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সকল নাগরিকের প্রতি সমতার ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করতে হবে। গণমাধ্যম একটি বহুমুখী ও সংবেদনশীল খাত। ফলে এখানে নানা মত ও চিন্তার সহাবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো প্রকার সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি অনুসরণের আহ্বান জানান তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের কাজের সংবেদনশীলতা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, এই মন্ত্রণালয়ের একটি ক্ষুদ্র ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সে কারণে যেকোনো সিদ্ধান্ত নির্ধারণে তাৎক্ষণিক ফলাফলের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সুচিন্তিতভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিটির সদস্যদের অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা গণমাধ্যমের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার সুষ্ঠু চর্চা ও সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার সুরক্ষায় প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। দেশের পরিবর্তিত গণমাধ্যম পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং পেশাগত স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নীতিগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। তথ্যমন্ত্রীর এ ধরনের বক্তব্য গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা আনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
উক্ত সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রতিনিধিগণ অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বিতরণের নীতিগত মানদণ্ড ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করেন।


