রাজনীতি ডেস্ক
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের এই প্রতিনিধি দল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে ইসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেয়। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধিমালা সংশোধনসহ জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও আইনি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সার্বিক রূপরেখা বিনিময় করা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সকাল ১১টার দিকে এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি শুরু হয়। এতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তাঁর সাথে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছাড়াও নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত রয়েছেন। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক কাঠামোগত বিষয়াবলি এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচন পরিচালনার নীতিগত দিকগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সূচি নির্ধারিত রয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে বেশ কয়েকটি নীতিগত ও মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক বিষয় প্রাধান্য পাচ্ছে। বিশেষ করে দেশের বিদ্যমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন ও বিধিমালার প্রয়োজনীয় সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল। একই সাথে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের প্রশাসনিক পদে ‘বিএনপিপন্থী’ অতিরিক্ত সচিব নিয়োগ সম্পর্কিত সাম্প্রতিক বিতর্ক ও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত উদ্বেগ নিয়ে কথা বলার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও দলটির নেতা গাজী নজরুল ইসলামের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়াদি বৈঠকের অন্যতম আলোচনার বিষয়বস্তু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের রূপরেখা এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা রক্ষা সংক্রান্ত আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় নির্বাচন পদ্ধতির সংস্কার ও আইনি সংশোধন করা হলে তা আগামী দিনগুলোতে তৃণমূল রাজনৈতিক দলগুলোর অংশীদারিত্ব ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সাথে কমিশন সচিবালয়ের পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলোর ওপর নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর আস্থা বজায় রাখা অবাধ নির্বাচনের পূর্বশর্ত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আলোচনার সুনির্দিষ্ট বিষয়বস্তু ও কমিশনকে দেওয়া প্রস্তাবনার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের পক্ষ থেকেও বৈঠকের অগ্রগতি এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরা হতে পারে।


