অপরাধ ডেস্ক
রাজধানী ঢাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধ দমন ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অপরাধ ও মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নগরীর বিভিন্ন থানাধীন এলাকায় পরিচালিত এসব সমন্বিত অভিযানে মোট ৫০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই সময় গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ চোরাই মালামাল ও অলংকার জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে পুলিশি তৎপরতায় অপহৃত এক ব্যক্তিকে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অভিযান পরিচালনা শেষে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে মোট ৩০টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বুধবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে জানানো হয়, মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ বিভাগ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ টহল ও অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে ১০৭ কেজি গাঁজা, ২৫ পিস ইয়াবা, ৮ ভরি ১৩ আনা ৫ রতি ওজনের ওজনের স্বর্ণালংকার, ৯টি মোবাইল ফোন এবং ২টি মোটরসাইকেল।
ডিএমপির বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নগরীর আটটি অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা পুলিশের সমন্বিত প্রয়াসে এই বৃহৎ আকারের অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে মিরপুর বিভাগ কর্তৃক সর্বোচ্চ ১২২ জন এবং মতিঝিল বিভাগ কর্তৃক ৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এছাড়া অন্যান্য অপরাধ বিভাগের মধ্যে তেজগাঁও বিভাগে ৭৪ জন, উত্তরা বিভাগে ৬৯ জন, ওয়ারী বিভাগে ৪১ জন, গুলশান বিভাগে ৩৮ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৫ জন এবং রমনা বিভাগে ৩৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি ডিএমপির বিভাগীয় পুলিশ ছাড়াও বিশেষ অভিযানে নিয়োজিত গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ৮ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে অপরাধীদের ভৌগোলিক বিন্যাস ও মাদক বিক্রির আস্তানা লক্ষ্য করে এই ঝটিকা অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুসংহত করা এবং চিহ্নিত অপরাধী ও মাদক কারবারিদের আইনের আওতায় আনাই এই ধরনের নগরব্যাপী পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত স্বর্ণালংকার ও ইলেকট্রনিক সামগ্রীর উৎস অনুসন্ধান এবং পূর্ববর্তী অপরাধমূলক ঘটনার সংযোগ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাঁদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে। নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে এবং রাজধানীতে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা অপরাধমূলক তৎপরতা রোধে পুলিশের এমন কঠোর ও সমন্বিত কার্যক্রম আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ।


