দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাকে (সার্ক) পুনরায় কার্যকর করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার সর্বাঙ্গীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একমত প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ও নেপাল। ঢাকা সফররত নেপালি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে জাতীয় সংসদের বৈঠকে আঞ্চলিক এই সংস্থাকে সক্রিয় করার বিষয়ে জোর তাগিদ দেওয়া হয়।
রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এ সময় উভয় দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি, সংসদীয় কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বৈঠকে সার্কের মূল লক্ষ্য ও সম্ভাবনা পুনরুজ্জীবিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন যে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই সার্কের যাত্রা শুরু হয়েছিল। সংস্থাটিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে পুনরায় গতিশীল ও সক্রিয় করতে নেপাল সরকারকে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। নেপালের রাষ্ট্রদূত এই প্রস্তাবে পূর্ণ সম্মতি প্রকাশ করে অঞ্চলের পারস্পরিক অগ্রগতির স্বার্থে সার্ককে জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সংস্থার পুনরুজ্জীবনের পাশাপাশি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সংসদীয় সম্পর্ক সম্প্রসারণ নিয়ে বৈঠকে বিশদ আলোচনা হয়। নেপালের আইনসভা ‘ফেডারেল পার্লামেন্ট অব নেপাল’-এ সম্প্রতি বাংলাদেশ-নেপাল পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের জন্য নেপাল সংসদের স্পিকার দোল প্রসাদ আর্যালকে ধন্যবাদ জানান ভারপ্রাপ্ত স্পিকার। তিনি জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদেও অনুরূপ বাংলাদেশ-নেপাল পার্লামেন্টারি মৈত্রী গ্রুপ গঠন করা হবে।
সংসদীয় ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপগুলোর যৌথ তৎপরতা উভয় দেশের আইন প্রণেতাদের মধ্যে সরাসরি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পথ উন্মুক্ত করবে। এর মাধ্যমে সংসদীয় কূটনীতি শক্তিশালী হওয়া ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, জ্বালানি বিনিময় এবং আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নেপাল থেকে বাংলাদেশে জলবিদ্যুৎ আমদানির বিদ্যমান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা মোকাবেলা, পানি বণ্টন এবং প্রযুক্তিগত আদান-প্রদান জোরদার করার বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তরণের চলমান প্রক্রিয়ার ইতিবাচক মূল্যায়ণ করেন তিনি। রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক সূচকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করবে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নেপাল আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার সংকল্প প্রকাশ করে।
উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন নেপাল দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব দ্য মিশন প্রতীক কার্কি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া।


