খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও প্রভাবশালী ডিফেন্ডার, ইতালি ও এসি মিলানের প্রবাদপ্রতিম ফুটবলার ফ্রাঙ্কো বারেসি ৬৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইতালীয় ফুটবলের এই কিংবদন্তির প্রয়াণে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গন ও ফুটবল বিশ্বে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ইতালির জাতীয় দল এবং ঐতিহাসিক ক্লাব এসি মিলানের হয়ে বারেসির অবদান ফুটবল ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ইতালির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই সেন্টার-ব্যাক দেশটির হয়ে একাধিক বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ইতালি দলের সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে নিয়ে যান। আন্তর্জাতিক ফুটবলের পাশাপাশি ক্লাব ফুটবলেও বারেসি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। পুরো খেলোয়াড়ি জীবন তিনি এসি মিলানের লাল-কালো জার্সিতে কাটিয়েছেন। তার নেতৃত্বে এসি মিলান তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ (বর্তমানে ওয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ) এবং ছয়টি সেরি ‘আ’ শিরোনাম জয় করে। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এসি মিলান তাদের বিখ্যাত ‘৬ নম্বর’ জার্সিটি চিরতরে অবসর দেয়, যা ফুটবল ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল সম্মাননা হিসেবে বিবেচিত।
বারেসির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তার প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করা হয়। বিবৃতিতে তাকে ক্লাবের আত্মা হিসেবে উল্লেখ করে গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয় এবং বলা হয় যে, ক্লাবের প্রতিটি সদস্য ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থকরা বারেসির রেখে যাওয়া স্মৃতি ও অবদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।
সর্বশেষ সান সিরো স্টেডিয়ামে আয়োজিত শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বারেসিকে জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল। উক্ত রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আয়োজনে তার উপস্থিতি দর্শনার্থীদের মাঝে বিশেষ উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিল। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, একজন খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মাঠের বাইরেও তার শৃঙ্খলা, কৌশলগত জ্ঞান ও ব্যক্তিত্ব বিশ্ব ফুটবলে ইতালিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
উল্লেখ্য, চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর খবর আসার মাত্র দুই দিন পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন পোর্টালে তার মৃত্যুর ভুয়া তথ্য প্রচার করা হয়েছিল। সে সময় ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উক্ত গুজব উড়িয়ে দিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হলেও, শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই কিংবদন্তির জীবনাবসান ঘটে।
বিশ্ব ফুটবলে প্রথাগত রক্ষণভাগকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করেছিলেন ফ্রাঙ্কো বারেসি। ‘সুইপার’ বা ‘লিবেরো’ পজিশনে তার খেলার ধরন আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত বিবর্তনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তার প্রয়াণে ইতালীয় ফুটবল এক মহান অভিভাবককে হারালো, যার প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ফুটবলারদের মাঝে দীর্ঘকাল বিদ্যমান থাকবে।


