আলজেরিয়ায় কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন চার বাংলাদেশী

আলজেরিয়ায় কারাভোগ শেষে দেশে ফিরলেন চার বাংলাদেশী

প্রবাস ডেস্ক

আলজেরিয়ার কারাগারে সাজা ভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন চারজন বাংলাদেশী নাগরিক। বৈধ কাগজপত্র ও ওয়ার্ক পারমিট না থাকায় দেশটির পুলিশের হাতে আটকের পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদেরকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। ৩০ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাতে একটি ফ্লাইটে তারা রাজধানী ঢাকায় পৌঁছান।

সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি আলজেরিয়া পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ১৪ জন বাংলাদেশী নাগরিককে আটক করে। পরবর্তীতে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আটককৃতদের অধিকাংশই অবৈধ উপায়ে এবং মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে আলজেরিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থানকালে তাদের কাছে প্রয়োজনীয় ওয়ার্ক পারমিট কিংবা বৈধ ভিসা ছিল না, যা স্থানীয় অভিবাসন আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ঘটনাটি অবগত হওয়ার পরপরই আলজেরিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। আটক নাগরিকদের সার্বিক আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্থানীয়ভাবে একজন আইনি পরামর্শক বা আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। পাশাপাশি আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ও সমন্বয় রক্ষা করা হয়। দীর্ঘ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৬ সালের ৩০ জুন সেদেশের আদালত আটককৃতদের মধ্য থেকে চার বাংলাদেশীকে মুক্তি দেয়ার আদেশ প্রদান করেন। কারামুক্তির পর প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি প্রস্তুত এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ৩০ জুলাই তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

মিশন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আটক থাকা অবশিষ্ট ১০ জন বাংলাদেশীর দ্রুত মুক্তি নিশ্চিত করা এবং তাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আলজেরিয়া সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে তদারকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। দূতাবাসের প্রতিনিধিরা সার্বিক অগ্রগতি তদারকি করছেন এবং আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে হালনাগাদ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের অবহিত রাখছেন।

বাংলাদেশী কর্মীদের অবৈধ পথে বিদেশ গমন এবং পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোকে ইউরোপে অনুপ্রবেশের ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সম্প্রতি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো কড়াকড়ি আরোপ করেছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, উপযুক্ত কাজের চুক্তিপত্র ও বৈধ ভিসা ব্যতীত যেকোনো দেশে গমন আইনি জটিলতা তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করে। ফলে মধ্যস্বত্বভোগী বা পাচারকারীদের প্রলোভনে না পড়ে সঠিক ও আইনি পন্থায় জনশক্তি রপ্তানি নিশ্চিত করার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

প্রবাস শীর্ষ সংবাদ