স্থানীয় সরকার ডেস্ক
বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ হাজার বছর ধরে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। ফলে এই ভূখণ্ডে ধর্ম বা জাতিগত ভিত্তি ধরে কোনো ধরনের বিভাজনের সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যে কোনো মূল্যে দেশের সার্বিক সামাজিক বৈচিত্র্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
শুক্রবার রাজধানী ঢাকায় আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সাম্প্রদায়িক প্রীতি বজায় রাখার উপায় নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের অস্তিত্ব ও জাতীয় চেতনার মূল ভিত্তি। যারা একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে যেতে চায় কিংবা ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়, তারা মূলত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে না। মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে ধারণ করেই দেশের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের প্রধান দুর্বলতা হলো বিগত সময়গুলোতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে বিগত ১৫ বছরে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধূলিসাৎ করা হয়েছিল। ফলে রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন স্তরে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। তবে অতীতের সেই ক্ষয়ক্ষতি ও প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে এখন নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বসাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এটি জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন। সামনে অনেক রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ এবং জটিল পরিস্থিতি রয়েছে। একটি স্বার্থান্বেষী মহল সবসময় ধর্মকে ব্যবহার করে সমাজে ফাটল ধরাতে এবং অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে সক্রিয় থাকে। ধর্মীয় অনুভূতিকে পুঁজি করে যারা বিভেদ ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে তাদের যে কোনো মূল্যে রুখে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের ব্যাখ্যা দিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন যে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করা এবং সংবিধানে দেওয়া সমান অধিকার সুনিশ্চিত করাই একটি প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন।


