জাতীয় ডেস্ক
পর্যটন শিল্পকে বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে সরকার একটি সুদূরপ্রসারী মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এই পরিকল্পনার আওতায় বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারকে নতুন রূপ দেওয়ার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক স্থানগুলোকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে মাসব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা জানান। জেলা প্রশাসন আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কেবল সুপরিচিত পর্যটন কেন্দ্রগুলোই নয়, বরং দেশের মফস্বল ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোতে রয়েছে পর্যটনের প্রচুর সম্ভাবনা। সরকারের বর্তমান পরিকল্পনা হলো এসব স্থান শনাক্ত করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে বিকাশ ঘটানো।
উদাহরণ টেনে তিনি জানান, কুষ্টিয়ার সাধক লালন শাহের জন্মস্থান, কবি পাগলা কানাইয়ের স্মৃতি বিজড়িত স্থান এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী মল্লিকপুর বটবৃক্ষ এলাকাকে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তুলতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব স্থানের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে স্থানীয় অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কক্সবাজার ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সমন্বিত উন্নয়ন করা গেলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। এতে জাতীয় অর্থনীতিতে বৈদেশীক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগে স্থানীয় পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি পর্যটন খাতের টেকসই প্রসারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


