ইকুয়েডরে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ভিলাভিসেনসিও হত্যা: সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

ইকুয়েডরে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ভিলাভিসেনসিও হত্যা: সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও বিরোধী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশটির সাবেক মন্ত্রী, সাবেক আইন প্রণেতা এবং শীর্ষ অপরাধী চক্রের সদস্যসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে দেশটির প্রসিকিউটর কার্যালয়। আততায়ী কর্তৃক প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে হত্যার তিন বছর পর ঘটনার নেপথ্য পরিকল্পনাকারী, অর্থায়নকারী এবং তথ্য সরবরাহকারীদের চিহ্নিত করে বিচার প্রক্রিয়ার অধীনে আনা হলো।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনপ্রণেতা ও প্রসিকিউটররা আদালতকে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত আসামিরা সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও পরোক্ষভাবে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও অর্থায়নে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন। ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের তালিকায় দেশটির প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও অপরাধ জগতের বেশ কয়েকটি পরিচিত মুখ উঠে এসেছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে দেশটির সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে সেরানো, সাবেক আইনপ্রণেতা রনি আলেগা, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ব্যবসায়ী জাভিয়ের জর্ডান এবং ইকুয়েডরের অন্যতম শক্তশালী অপরাধী গোষ্ঠী ‘লস লোবোস’-এর শীর্ষ চার সদস্য রয়েছেন। লস লোবোস গ্যাংয়ের প্রধান উইলমার চাভারিয়া ওরফে ‘পিপো’ এই হত্যা পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত।

মামলার বিবরণ ও প্রসিকিউশন দল সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ব্যবসায়ী জাভিয়ার জর্ডান এই হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে অর্থায়ন এবং প্রাথমিক নকশা তৈরি করেছিলেন। অপরদিকে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে সেরানোর বিরুদ্ধে মূল অভিযুক্ত অপরাধী গোষ্ঠীর কাছে ভিলাভিসেনসিওর চলাফেরা ও অবস্থান সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য হস্তান্তরের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা সাবেক আইনপ্রণেতা রনি আলেগা এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মাঠপর্যায়ের সমন্বয়কের কাজ করেছেন বলে প্রসিকিউটরদের তদন্তে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, স্পেনে গ্রেফতারকৃত গ্যাং লিডার চাভারিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি প্রায় ১০ লাখ মার্কিন ডলারের চুক্তিতে এই আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডটি নিষ্পত্তির দায়িত্ব নেন।

২০২৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র ১১ দিন আগে রাজধানী কুইটোতে এক জমকালো প্রচার সভা শেষে বের হওয়ার মুহূর্তে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও। অপরাধবিজ্ঞান ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হত্যাকাণ্ডটি ইকুয়েডরের তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। সাবেক অনুসন্ধানী সাংবাদিক ভিলাভিসেনসিও দুর্নীতি এবং সংগঠিত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর কিছুদিন পূর্বেই তিনি ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন সশস্ত্র গ্যাংয়ের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এ পর্যন্ত তদন্তে বেশ কিছু নাটকীয় মোড় দেখা গেছে। ঘটনাস্থলেই নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দেহরক্ষীদের পাল্টা গুলিতে এক বন্দুকধারী নিহত হন। পরবর্তীতে গ্রেফতার হওয়া আরও ছয়জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি কারা হেফাজতে থাকাকালে রহস্যজনকভাবে খুন হন। তবে পূর্ববর্তী বিচারে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া পাঁচজনকে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বোচ্চ ৩৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত।

সর্বশেষ সাত মূল পরিকল্পনাকারীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে দেশটির বিচার বিভাগ একটি বহুল আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ বিচার সম্পন্নের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচারের রায় ইকুয়েডরে রাজনীতি ও সংগঠিত অপরাধ চক্রের মেলবন্ধন ভাঙতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ