চীনে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের আঘাতের আশঙ্কা: সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি, হাজারো ফ্লাইট বাতিল

চীনে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের আঘাতের আশঙ্কা: সর্বোচ্চ ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি, হাজারো ফ্লাইট বাতিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনের ঘনবসতিপূর্ণ পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’ আঘাত হানতে যাচ্ছে। প্রলয়ংকারী এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে দেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় সর্বোচ্চ মাত্রার সতর্কতামূলক ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করেছে চায়না ন্যাশনাল মেটিওরোলজিক্যাল সেন্টার (এনএমসি)। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে এরই মধ্যে ১ হাজার ৪০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং উপকূলীয় এলাকা থেকে প্রায় এক লাখ বাসিন্দাকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া পূর্বাভাসের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে তাণ্ডব চালানোর পর টাইফুন ডলফিন এখন দ্রুতগতিতে চীনের উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। স্থানীয় সময় রবিবার গভীর রাত থেকে সোমবারের মধ্যে এটি ঝেজিয়াং অথবা পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের স্থলভাগে আছড়ে পড়তে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগে প্রবেশ করে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আবহাওয়া ব্যবস্থার স্বাভাবিক নিয়মেই ধীরে ধীরে শক্তি হারাবে।

টাইফুনের আগাম প্রভাব ও সম্ভাব্য ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে দেশটির প্রশাসন। দেশটির ব্যস্ততম বাণিজ্যিক শহর সাংহাইয়ের প্রধান দুটি বিমানবন্দরে প্রায় ১,৪০০টি নির্ধারিত অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সংলগ্ন ঝেজিয়াং প্রদেশের হাংঝু বিমানবন্দরে আরো ২৭০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে ঝেজিয়াং ও ফুজিয়ান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ ২০০টিরও বেশি ফেরি রুটের নৌযান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।

দুর্যোগ মোকাবিলা নিশ্চিত করতে ফুজিয়ান প্রদেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯৮,৯০০ জন অধিবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। উপকূলীয় এলাকার সব ধরনের নির্মাণকাজ ও অফশোর প্রকল্পের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে এবং অন্তত ৪৭৪টি নির্মাণ নৌযানকে নিরাপদে বন্দরে নোঙর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাড়তি সতর্কতা হিসেবে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় রেলপথগুলোর কিছু দূরপাল্লার ট্রেন চলাচলও আপাতত বন্ধ রয়েছে।

চীনের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, টাইফুনটির সরাসরি প্রভাবে ঝেজিয়াংয়ের পূর্বাঞ্চলসহ সাংহাই, ফুজিয়ান, আনহুই এবং জিয়াংসু প্রদেশে সোমবার দুপুর পর্যন্ত “অস্বাভাবিক ভারী থেকে অতি ভারী” বৃষ্টিপাত হতে পারে।

এর আগে টাইফুন ডলফিনের প্রভাবে জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে প্রবল ঝোড়ো হাওয়ায় অন্তত সাতজন আহত হন এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া তাইওয়ানের উত্তরাঞ্চলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৮০টির বেশি ফ্লাইট ও বেশ কয়েকটি ফেরি সার্ভিস বিঘ্নিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুয়াংডং প্রদেশে প্রবল শক্তি নিয়ে আছড়ে পড়েছিল চলতি বছরের অন্যতম শক্তিশালী টাইফুন ‘নৌল’। ফিলিপাইনে তিনজনের প্রাণহানি ঘটিয়ে চীনে প্রবেশ করা সেই দুর্যোগের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে শক্তিশালী টাইফুন ডলফিনের আশঙ্কায় পুরো পূর্ব চীনজুড়ে এখন চরম সতর্ক অবস্থা বিরাজ করছে।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ