জাতীয় ডেস্ক
চলতি অর্থবছরে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনছে সরকার। এর মাধ্যমে এসব উপাসনালয়ে কর্মরত ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও কর্মী সরাসরি মাসিক সম্মানী পাবেন। এই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
সোমবার ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চলতি মাসেই আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রের এই প্রত্যক্ষ সুবিধার আওতায় আনা মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩০১টি গির্জা। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের পাশাপাশি অন্যান্য সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্য এ কল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়মিত অর্থ সহায়তার পাশাপাশি তাঁদের জন্য প্রশিক্ষণভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো গড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ক সেলের এক গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং তহবিল বণ্টনের সার্বিক নীতিমালা চূড়ান্ত করা হয়। সেলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু (শরীয়তপুর-৩), সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার (গাইবান্ধা-৪), ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এবং সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।
তৃণমূল পর্যায়ে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে বিশেষ প্রশাসনিক সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে ১৫টি করে মসজিদ নির্বাচিত হবে। পৌরসভার ক্ষেত্রে ‘ক’ শ্রেণির প্রতিটি ওয়ার্ডে চারটি, ‘খ’ শ্রেণির ওয়ার্ডে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির ওয়ার্ডে দুটি করে মসজিদ ভাতা পাবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রতি ওয়ার্ডে নির্বাচিত হবে ছয়টি করে মসজিদ।
অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে উপজেলা কেন্দ্রিক বণ্টন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। পৌর এলাকায় শ্রেণির ওপর নির্ভর করে প্রতি ওয়ার্ড থেকে একটি বা দুটি মন্দির এবং অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ইউনিয়ন পর্যায় থেকে বাছাই করা হবে। অন্যদিকে, দেশের বৌদ্ধবিহার ও গির্জার ভৌগোলিক বিস্তৃতি বিবেচনা করে জেলাভিত্তিক ২৫ শতাংশ হারে এগুলোকে নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
পদমর্যাদা অনুযায়ী এই সম্মানীর অঙ্কে পার্থক্য রাখা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, নির্বাচিত মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজক প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে সম্মানী পাবেন। দ্বিতীয় ধাপে মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধবিহারের উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার সহকারী যাজকের মাসিক ভাতা নির্ধারিত হয়েছে ৩ হাজার টাকা। এছাড়া মসজিদের খাদেমগণ প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে সম্মানী ভাতা পাবেন।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং স্বজনপ্রীতি রোধে সম্পূর্ণ অর্থ লেনদেন প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সকল সম্মানীর টাকা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি উপকারভোগীদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতির মাধ্যমে জমা হবে। সরকারের এই পদক্ষেপ ধর্মীয় সেবকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং সমাজে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি জোরদারে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।


