পরিবেশ ও আবহাওয়া ডেস্ক
দেশের চার বিভাগে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এর পাশাপাশি রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে। দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদী অববাহিকা এবং উপকূলীয় এলাকাগুলোতে বৃষ্টির তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকার সম্ভাবনা প্রকাশ করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়া পরিস্থিতিতে জানানো হয়েছে, দিন ও রাতের সার্বিক তাপমাত্রা প্রায় একই রকম থাকবে। তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকার পাশাপাশি বাতাসে উচ্চ আর্দ্রতার কারণে কিছুটা ভ্যাপসা গরম অনুভব হতে পারে। এ সময়ে বাতাস দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হতে পারে।
আবহাওয়া অফিসের সংগৃহীত উপাত্ত অনুযায়ী, সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৬.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যেখানে সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ২৭.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আগের দিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ, যা দিনের বেলা গরম ও অস্বস্তি বাড়িয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩৪ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৩৩ মিনিটে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষার এই সময়ে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বেশি থাকে। পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের ফলে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল কিংবা ভূমিধসের ঝুঁকি পর্যালোচনার আওতায় রাখা দরকার। অন্যদিকে সমতল ও উপকূলীয় এলাকায় নদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়েও সতর্ক থাকার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
একই সঙ্গে দেশের কৃষি খাতে এই বৃষ্টিপাতের প্রভাব ইতিবাচক হতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে আমন ধান রোপণ ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে বৃষ্টিপাত পর্যাপ্ত সেচের ভূমিকা রাখবে। তবে উপকূলীয় নিম্নাঞ্চল এবং শহরের নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলজট সৃষ্টি হতে পারে।
সাধারণ নাগরিক ও পথচারীদের জন্য আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ছাতা বা বৃষ্টির সুরক্ষা ব্যবস্থা সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নদীপথের নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশনা অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা আবহাওয়ার এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিক জলবায়ু প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্ণনা করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।


