২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশ, শক্তিশালী একাদশ নিয়ে প্রস্তুত স্বাগতিকরা

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্টে বাংলাদেশ, শক্তিশালী একাদশ নিয়ে প্রস্তুত স্বাগতিকরা

ক্রীড়া ডেস্ক
দীর্ঘ ২৩ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। ডারউইনের ঐতিহ্যবাহী মাররারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাচ্ছে। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (২০২৫-২৭) গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের লক্ষে আয়োজিত এই ঐতিহাসিক সিরিজের প্রথম ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ম্যাচের এক দিন আগে ঘোষিত ১১ সদস্যের তালিকায় চোট সারিয়ে একাধিক তারকা খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হয়েছে।
চোটের কারণে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে থাকা অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, অভিজ্ঞ ফাস্ট বোলার জশ হ্যাজলউড এবং তারকা অফ-স্পিনার নাথান লায়ন অস্ট্রেলিয়া একাদশে ফিরেছেন। তাঁদের এই প্রত্যাবর্তনে স্বাগতিক দলের বোলিং আক্রমণ অনেক বেশি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী রূপ ধারণ করেছে। প্যাট কামিন্স ও জশ হ্যাজলউডের দলে অন্তর্ভুক্তির ফলে এক বছরেরও বেশি সময় পর আবারও মাঠে দেখা যাবে বিশ্বখ্যাত অস্ট্রেলীয় পেস ত্রয়ীকে। নতুন বলে বামহাতি পেসার মিচেল স্টার্কের সঙ্গে আক্রমণ সামলাবেন হ্যাজলউড এবং স্বয়ং অধিনায়ক কামিন্স। অস্ট্রেলিয়ার পেস সহায়ক কন্ডিশনে এবং গতিময় উইকেটে এই বিধ্বংসী আক্রমণের মুখোমুখি হওয়া বাংলাদেশি ব্যাটারদের জন্য একটি অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
দলে ফেরার পাশাপাশি যথারীতি অস্ট্রেলিয়ার নেতৃত্বের ব্যাটন থাকছে ৩৩ বছর বয়সী তারকা পেসার প্যাট কামিন্সের হাতে। তাঁর দক্ষ অধিনায়কত্বে দেশের মাটিতে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে অজিরা। ঘোষিত একাদশের টপ অর্ডারে জাকের ওয়েদারাল্ডের সঙ্গে ইনিংস সূচনা করতে পারেন ট্রাভিস হেড। মিডল অর্ডারের মূল ভরসা হিসেবে থাকছেন মারনাস লাবুশেন ও অভিজ্ঞ স্টিভ স্মিথ। অলরাউন্ডার হিসেবে দলে জায়গা করে নিয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন এবং বো ওয়েবস্টার। উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালন করবেন অ্যালেক্স ক্যারি। তিন প্রধান পেসারের পাশাপাশি একমাত্র বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে দলের স্পিন বিভাগের নেতৃত্ব দেবেন অভিজ্ঞ নাথান লায়ন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ দল সর্বশেষ ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলেছিল। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর দেশটির বাউন্সি উইকেটে লাল বলের ক্রিকেটে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে সফরকারী বাংলাদেশের সামনে। নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল এই সিরিজে ইতিবাচক ফল অর্জনে আত্মবিশ্বাসী। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তালিকায় নিজেদের অবস্থান সুসংহত করা এবং অ্যাওয়ে কন্ডিশনে দলগত পারফরম্যান্সের উন্নতি ঘটানোই বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য।
ডারউইনের কন্ডিশন ও উইকেটের আচরণ বিবেচনায় ম্যাচের প্রথম সেশনটি দুই দলের জন্যই অত্যন্ত সংকটপূর্ণ হবে বলে ধারণা করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ম্যাচের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বসেরা পেস আক্রমণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যাটাররা কতটুকু স্থায়িত্ব দেখাতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করবে পুরো ম্যাচের গতিপথ।
প্রথম টেস্টের ঘোষিত অস্ট্রেলিয়া একাদশ:
জ্যাক ওয়েদারাল্ড, ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি (উইকেটরক্ষক), বো ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স (অধিনায়ক), জশ হ্যাজলউড এবং নাথান লায়ন।
খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ