শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ গঠন

শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ গঠন

অপরাধ ডেস্ক
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অনুমোদনের জন্য (ডেথ রেফারেন্স) এবং আসামিদের আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টের একটি বিশেষ বেঞ্চে পাঠানো হয়েছে। প্রধান বিচারপতির আদেশে গঠিত এই বেঞ্চে মামলাটির শুনানির কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।
হাইকোর্টের কার্যতালিকায় মামলাটি বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর আগে গত ১২ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ফেনীর মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি এবং মাগুরার শিশু হত্যা মামলার শুনানির পরপরই শিশু রামিসা হত্যা মামলার শুনানির কার্যক্রম শুরু হতে পারে।
আইনজীবীদের সূত্র জানায়, এর আগে বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের করা জেল আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স শুনানির প্রস্তুতি হিসেবে হাইকোর্টের একই দ্বৈত বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য স্টেট ডিফেন্স (রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী) নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। ওই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৯ মে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এই পৈশাচিক অপরাধে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। ঘটনার পর পুলিশ ও প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে আদালতে দাখিল করা সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।
অপরাধের মাত্রা ও নৃশংসতার গভীরতা বিবেচনা করে ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চাঞ্চল্যকর এই মামলায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ও তার সহযোগী স্ত্রী স্বপ্না আক্তার—উভয়কেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে কনডেম সেলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তারা বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে জেল আপিল দায়ের করেন।
সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত মামলার রায় কার্যকরের পূর্বে হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন বা ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি আসামিদের করা আপিল ও জেল আপিল একসঙ্গে শুনানি করার দীর্ঘদিনের আইনি প্রথা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় উচ্চ আদালতের এই বিশেষ বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শুরু হওয়ার ফলে বিচার প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত নিষ্পত্তির পথে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন।
আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ