অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের সব সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি মৌলভীবাজারে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আসন্ন এই নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা ইতোমধ্যে জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন বর্তমানে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। এই প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন, স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে কোন স্তরের নির্বাচন আগে এবং কোনগুলো পরে অনুষ্ঠিত হবে, তার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো চলতি অর্থছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের এই পাঁচটি স্তরের সব নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা।
এদিকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী করার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশের সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি জানান, এই কর্মসূচির আওতায় পর্যায়ক্রমে দেশের সব সরকারি ভবন এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকা কার্যালয়গুলোতে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা হবে।
সরকার নির্ধারিত এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি রাখা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, সৌরবিদ্যুৎ চালুর পরবর্তী ছয় মাস পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ বিল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করছে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকারগুলোর নির্বাচন একই অর্থবছরে সম্পন্ন করার এই উদ্যোগ দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য একটি বড় কর্মযজ্ঞ। এর মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্থগিত বা প্রতীক্ষিত স্থানীয় নির্বাচনগুলোর জট যেমন খুলবে, তেমনি তৃণমূল পর্যায়ে গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে। একই সঙ্গে সরকারি স্থাপনাগুলোতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করার এই সিদ্ধান্ত দেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এবং বিদ্যুৎ খাতের ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


