ক্রীড়া ডেস্ক
সুদামেরিকানার শেষ ষোলোর প্রথম লেগের ম্যাচে ইকুয়েডরের ক্লাব মাকারার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোস। প্রতিপক্ষের মাঠে পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে দলটি। সান্তোসের জয়ে গোল না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার। দলের হয়ে করা দুটি গোলেরই নেপথ্যে ছিল তার নিখুঁত অ্যাসিস্ট।
ম্যাচের শুরুটা সান্তোসের জন্য খুব একটা সুখকর ছিল না। প্রথমার্ধের খেলায় মাকারার রক্ষণভাগ সামলাতে গিয়ে কিছুটা ব্যাকফুটে ছিল সফরকারীরা। গোল হজম করে ম্যাচে পিছিয়ে পড়ার পর গ্যালারিতে উপস্থিত সান্তোস সমর্থকদের একাংশের সমালোচনার মুখে পড়তে হয় নেইমারকে। প্রথমার্ধে একটি ভুল পাস দেওয়ার জের ধরে গ্যালারি থেকে দুয়ো ধ্বনি শুনতে হয় এই ফরোয়ার্ডকে। তবে সেই চাপ কাটিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে নিজের ছন্দ ফিরে পান তিনি।
ম্যাচ শেষে ইএসপিএন ব্রাজিলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেইমার প্রথমার্ধের সেই পরিস্থিতির কথা স্মরণ করেন। সমর্থকদের আচরণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সেসময় আমরা এক গোলে পিছিয়ে ছিলাম। আমি জানি সমর্থকরা কেন হতাশ ছিলেন। তবে স্টেডিয়ামে এসে নেতিবাচক মানসিকতা প্রকাশের চেয়ে বাড়িতে বসে থাকাই বরং শ্রেয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘সেই মুহূর্তে আমি গ্যালারির দিকে তাকিয়ে সমর্থকদের বলেছিলাম সমালোচনা না করে আমাদের সমর্থন যোগাতে। কারণ তখনও খেলা শেষ হতে ৬০ মিনিট বাকি ছিল। যেকোনো পরিস্থিতিতে দলকে উৎসাহ দেওয়াটা সমর্থকদের দায়িত্ব।’
ম্যাচে পিছিয়ে পড়া সান্তোসকে সমতায় ফেরাতে এবং পরবর্তীতে জয়সূচক গোল পেতে নেইমারের করা দুটি অ্যাসিস্টই ব্যবধান গড়ে দেয়। প্রথম অ্যাসিস্টটি আসে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে, যা দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে। এরপর ম্যাচের শেষ দিকে তার করা দ্বিতীয় অ্যাসিস্টটি সান্তোসের জয় নিশ্চিত করে।
এই জয়ের ফলে সুদামেরিকানার পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথে সান্তোস সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্বের এ ধরনের ম্যাচে প্রতিপক্ষের মাঠে এই জয় দলের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি সমর্থকদের সঙ্গে নেইমারের এ ধরনের দূরত্ব নিয়ে ক্লাবের অন্দরমহলে আলোচনা চলছে। পেশাদার ফুটবলে সমর্থকদের সমর্থন এবং খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্সের ভারসাম্য যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এই ম্যাচটি যেন তারই একটি প্রতিফলন।
সান্তোস এখন দ্বিতীয় লেগের প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। নিজেদের মাঠে ঘরের সমর্থকদের সামনে এই জয়কে পুঁজি করে দলটি কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। নেইমারের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং দলের সমন্বিত আক্রমণভাগ দ্বিতীয় লেগেও বজায় থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন সান্তোস সমর্থকরা।


