আন্তর্জাতিক ডেস্ক
শনিবার (১৫ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক হুমকির তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, টুইট, বিমানবাহী রণতরী কিংবা কোনো রাজনৈতিক নির্দেশ বা নির্বাচনী ভাষণের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা অসম্ভব। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করার উপক্রম হলে তেহরানের পক্ষ থেকে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (পূর্ববর্তী টুইটার) প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইরান কোনো ধরনের সামরিক শক্তি প্রদর্শন বা বাহ্যিক হুমকিতে বিচলিত হয় না।
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম সংবেদনশীল ও কৌশলগত জলপথ হিসেবে বিবেচিত। এই প্রণালীর ওপর দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বৈশ্বিক বাজারে পরিবাহিত হয়। কাজেম ঘরিবাবাদীর বক্তব্যে দ্ব্যর্থহীনভাবে উঠে এসেছে যে, এই জলপথটি উন্মুক্ত রাখা বা এর চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ইরানের সার্বভৌম এখতিয়ার এবং নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূল ধমনী হিসেবে পরিচিত এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় রয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বের এ ধরনের মন্তব্য ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালীর ভৌগোলিক অবস্থান এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণ অত্যন্ত জটিল। পারস্য উপসাগরের প্রবেশদ্বারে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়ে থাকে। ফলে এই জলপথের নিরাপত্তা বা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেকোনো ধরনের বড় ধরণের ভূরাজনৈতিক সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতেও এই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মধ্যে একাধিকবার মুখোমুখি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন করে এই অঞ্চলকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানি উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থানের মধ্য দিয়ে তেহরান তাদের সামরিক প্রস্তুতি এবং কৌশলগত স্বাধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই নতুন বাকযুদ্ধ বৈশ্বিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল এখন এই অঞ্চলের গতিপ্রকৃতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে, কারণ এই জলপথে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে।


