জাতীয় ডেস্ক
ঝিনাইদহ: দেশের স্বাস্থ্যসেবা খাতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকসহ প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। একই সঙ্গে প্রান্তিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে উপজেলা হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি, ডায়ালিসিস ইউনিট স্থাপন এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্য কার্ড চালুর বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এসব তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরেজমিনে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে সারা দেশে হাসপাতালগুলো আকস্মিক পরিদর্শন করা হচ্ছে। অতীতের দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্য খাত যে সংকটে পড়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থাকে একটি কার্যকর ও সমন্বিত শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসতে সরকার বহুমাত্রিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। জনবল সংকট নিরসনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। এছাড়া ইতিমধ্যে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। প্রান্তিক মানুষের জটিল রোগের চিকিৎসার সুবিধার্থে নিকট ভবিষ্যতে উপজেলা পর্যায়ে ১০ শয্যার ডায়ালিসিস ইউনিট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, রোগনির্ণয় পরীক্ষার আধুনিকায়ন এবং ওষুধ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কঠোর তদারকি চালানো হচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পরিবার পরিকল্পনা সামগ্রী ও ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।
তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে আধুনিক প্যাথলজি ও ফিজিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সাথে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত ও সেবামূলক উন্নয়ন করা হচ্ছে। নাগরিকদের চিকিৎসার সার্বিক তথ্য সংরক্ষণ এবং নির্বিঘ্ন সেবা নিশ্চিত করতে শিগগিরই ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ কার্যক্রম চালু করা হবে।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ, বহির্বিভাগ এবং প্যাথলজি ল্যাব ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগী ও কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না বলেও তিনি সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।
এ সময় মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হেলেনা আক্তার নিপা, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


