আন্তর্জাতিক ডেস্ক
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী হেইডেন প্যানেটিয়ের মৃত্যুবরণ করেছেন। নিজ ৩৭তম জন্মদিনের মাত্র চার দিন আগে তার এই আকস্মিক প্রয়াণ ঘটে। দর্শকপ্রিয় টিভি ধারাবাহিক ‘হিরোস’ এবং হরর চলচ্চিত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্ক্রিম’-এ অনবদ্য অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে তার মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
অভিনেত্রীর পারিবারিক প্রতিনিধির পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, তিনি পরিচিতজন এবং বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ দর্শকের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রেখে গেছেন। শোবিজ অঙ্গনে তার এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শৈশব থেকেই বিনোদন জগতে পদচারণা ছিল হেইডেন প্যানেটিয়েরের। টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করার পর দ্রুতই মূলধারার নাট্য ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে জায়গা করে নেন তিনি। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিভিত্তিক ধারাবাহিক ‘হিরোস’-এ ক্লেয়ার বেনেটের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আন্তর্জাতিক তারকাখ্যাতি লাভ করেন। পরবর্তীতে সঙ্গীতভিত্তিক জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ন্যাশভিল’-এ জুলিয়েট বার্নসের চরিত্রে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি দুইবার মর্যাদাপূর্ণ গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের মনোনয়ন পান। এছাড়া নব্বই ও দুই হাজার দশকের একাধিক ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি সাহিত্য জগতেও সক্রিয় ছিলেন এই শিল্পী। চলতি বছরের মে মাসে প্রকাশিত হয় তার রচিত আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দিস ইজ মি: এ রেকনিং’। গ্রন্থটিতে তিনি তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের নানামুখী অভিজ্ঞতার ওপর আলোকপাত করেন।
পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন সংকট নিয়েও তিনি বরাবরই অত্যন্ত স্পষ্টবাদী ছিলেন। অতীতে মানসিক চাপ এবং আসক্তিজনিত সমস্যার বিরুদ্ধে নিজের লড়াই নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করে তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় ভূমিকা রাখেন। ২০২০ সালে চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন।
তবে ২০২৩ সালে তার ছোট ভাই জ্যানসেন মাত্র ২৮ বছর বয়সে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে পরিবারটি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়। পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে ভাইয়ের বিয়োগান্তক ঘটনাকে জীবনের অন্যতম বড় মানসিক আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনের এই শোক এবং টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্যেই তার স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছিল।
অনলাইনে সমালোচনার প্রেক্ষিতে তিনি সাইবার বুলিং ও ভিত্তিহীন অনুমানের কঠোর প্রতিবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, যাচাই-বাছাই ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য কোনো ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে।
অভিনয় জীবনের বৈচিত্র্যময় কাজ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতামূলক অবস্থানের কারণে হলিউডে হেইডেন প্যানেটিয়েরের অবদান বিশেষভাবে স্মরণ করা হয়। তার প্রয়াণে সহকর্মী ও অনুরাগীদের মাঝে গভীর শোক বিরাজ করছে।


