বিগত দেড় দশকে বহু নেতাকর্মী গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন: আইনমন্ত্রী

বিগত দেড় দশকে বহু নেতাকর্মী গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন: আইনমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক
বিগত দেড় দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সরকারের দায়িত্বশীল মহল। রোববার রাতে বরিশালের গৌরনদীতে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বেগম খালেদা জিয়ার অবিস্মরণীয় ভূমিকা ও বর্তমান প্রেক্ষিত’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা বিগত শাসনকালের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান বিগত ১৭ বছরের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাড়ে চার হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড তথা কথিত ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন এবং সাত শতাধিক নেতাকর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের দীর্ঘস্থায়ী মানবিক দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিখোঁজদের স্বজনেরা বছরের পর বছর ধরে তাদের ফিরে আসার প্রতীক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন।
আইনমন্ত্রী দেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের নানা ধাপ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার ওপর আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় এবং পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক সংকটে বেগম খালেদা জিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর প্রতিকূল পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দুই সন্তান ও দল পরিচালনার দ্বৈত দায়িত্ব সামলে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আপসহীন ভূমিকা পালন করেন।
আইনমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্র-জনতার অংশগ্রহণে সংঘটিত জুলাই বিপ্লবের পটভূমি মূলত দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতারই ফল। বিগত দেড় দশক ধরে দেশে যে রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, তা এই গণ-অভ্যুত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে। ফলে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রতিটি সংগ্রামের অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি তার বক্তব্যে জাতীয় রাজনীতিতে ঐক্য, মানবাধিকার রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বিগত সময়ের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাসমূহের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দেশে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেন।
আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ