অভিনেত্রী রিধিকার রহস্যজনক মৃত্যু: প্রেমিক হাসিবুর গ্রেপ্তার ও কারাগারে

অভিনেত্রী রিধিকার রহস্যজনক মৃত্যু: প্রেমিক হাসিবুর গ্রেপ্তার ও কারাগারে

অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজ বাসা থেকে মডেল ও অভিনেত্রী রিধিকার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রেমিক হাসিবুরের সঙ্গে ভিডিও কলে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে তিনি সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় প্রেমিক হাসিবুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ওই বাসায় রিধিকা তার কয়েকজন বান্ধবীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন। রাতে আড্ডার একপর্যায়ে নিহতের বান্ধবীরা মজার ছলে হাসিবুরকে ফোন করে জানান যে রিধিকা অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ সেবন করেছেন এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে কথোপকথনের সময় রিধিকার হাসির শব্দ শুনে হাসিবুর বিষয়টি সাজানো নাটক বুঝতে পারেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ফোনে তীব্র তর্কবিতর্ক ও ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।
রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি জটিল রূপ ধারণ করলে রিধিকা তার কক্ষে অবস্থানরত বান্ধবী ইশান ও জান্নাতকে পাশের ড্রয়িংরুমে গিয়ে ঘুমানোর অনুরোধ জানান। এরপর নিজ কক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি হাসিবুরের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ফোনে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন। একপর্যায়ে ভিডিও কলে থাকা অবস্থাতেই রিধিকা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস নেন।
ঘটনার আকস্মিকতায় হাসিবুর বাসায় থাকা অন্যান্য বান্ধবীদের ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা ঘুমিয়ে থাকায় কোনো সাড়া পাননি। পরবর্তীতে তিনি রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে বসুন্ধরায় রিধিকার বাসায় উপস্থিত হন।
ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিয়ে বান্ধবীদের ঘুম ভাঙান হাসিবুর। এরপর কক্ষের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রিধিকাকে নামিয়ে অচেতন অবস্থায় কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল থেকে খবর পেয়ে ভাটারা থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে হাসিবুরকে তাৎক্ষণিকভাবে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে নিহতের মা মনি বেগম বাদী হয়ে ভাটারা থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সম্পর্কের শুরু থেকেই হাসিবুর বিভিন্ন সময় রিধিকাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও ঘটনার রাতে সৃষ্ট তীব্র কলহের জেরেই রিধিকা এমন চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে পরিবার দাবি করেছে।
ভাটারা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ, ফোনালাপের রেকর্ড এবং পারিবারিক অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ