সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তের পথে: মাহদী আমিন

সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল চূড়ান্তের পথে: মাহদী আমিন

জাতীয় ডেস্ক
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন এ তথ্য প্রকাশ করেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত বিশেষ মতবিনিময় সভায় মাহদী আমিন সরকারের বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী বেতন কাঠামো প্রণয়নের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
অগ্রগতির তথ্য ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য
মতবিনিময় সভায় মাহদী আমিন বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের সুবিধার জন্য নতুন যে পে-স্কেল প্রস্তুত করা হচ্ছে, তার রূপরেখা ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া অনেকটাই চূড়ান্তের পথে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি ইতিমধ্যে মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক ভারসাম্য এবং জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা সম্পন্ন করেছে।
উপদেষ্টা জানান, প্রশাসনিক সংস্কার ও সরকারি কর্মচারীদের কাজের গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার দ্রুততম সময়ে এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চূড়ান্ত খসড়াটি পর্যালোচনার পর নিয়ম অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
প্রেক্ষাপট ও অর্থনৈতিক প্রভাব
দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও বাজারদরের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাকুরিজীবী মহলে একটি নতুন ও বাস্তবসম্মত পে-স্কেলের প্রত্যাশা ছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কর্মকর্তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও কাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ বড় ভূমিকা রাখবে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জাতীয় বাজেটের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সামলানো এবং সার্বিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। বেতন বৃদ্ধির সুফল যেন সার্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সেদিকে নজর রেখেই বেতন কাঠামোর ধাপ ও ভাতা নির্ধারণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
সরকারি অন্যান্য কল্যাণমূলক উদ্যোগ
মতবিনিময় সভায় সরকারের নির্ধারিত ইশতেহার ও প্রতিশ্রুতির বাইরে গিয়ে নেওয়া বিভিন্ন জরুরি আর্থিক পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়। মাহদী আমিন জানান, প্রশাসনিক দক্ষতার পাশাপাশি বিভিন্ন পেশাজীবী ও অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া পাওনা মেটাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অবসর ভাতা ও কল্যাণ ট্রাস্টের বকেয়া পরিশোধে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তহবিল বরাদ্দ দিয়েছে। অতীতে আটকে থাকা তহবিল ছাড় করে ইতিমধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ সংশ্লিষ্ট খাতে হস্তান্তর করা হয়েছে, যার মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকা শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য পাওনা পেতে শুরু করেছেন।
সরকারি খাতের সার্বিক সংস্কার, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা অব্যাহত রেখেছে। নতুন পে-স্কেলের চূড়ান্ত ঘোষণা এলে তা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে সহায়ক হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ