অর্থ ও বাণিজ্য ডেস্ক
ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়নে ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। সেবাগ্রহীতাদের দুর্ভোগ লাঘব ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সংস্থায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে অভিযুক্ত এক কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কেন প্রচলিত আইনে চূড়ান্ত প্রশাসনিক ও বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
অব্যাহতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদ। তিনি ডিএসসিসির অঞ্চল-৪-এর রাজস্ব বিভাগের বিবিধ আদায় শাখায় লাইসেন্স ও বিজ্ঞাপন সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সিটি করপোরেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাকে লিখিতভাবে শোকজের জবাব দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। প্রাপ্ত জবাব সন্তোষজনক না হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
সম্প্রতি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় বাণিজ্য সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, যানজট নিরসন এবং ট্রেড লাইসেন্সসহ সার্বিক সেবার মানোন্নয়ন বিষয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। নগর ভবনে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, রাজস্ব বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ডিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং রাজধানীর বিভিন্ন ব্যবসায়ী সমিতির শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মতবিনিময় সভায় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী ভুট্টো সরাসরি ডিএসসিসির লাইসেন্স সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি জানান, গত জুন মাসে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আয়োজিত অনস্পট ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ক্যাম্প চলাকালে ওই কর্মকর্তা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ২২টি ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি নগদ অর্থ গ্রহণ করেন। তবে নির্ধারিত দেড় মাসেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও লাইসেন্সগুলো নবায়ন করে হস্তান্তর করা হয়নি। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা তার সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ ও টালবাহানা করেন।
ব্যবসায়ী নেতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উপস্থাপনের পরপরই ডিএসসিসির প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আমলে নেন এবং তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। প্রাথমিক তদন্তে আনীত অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ায় অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোস্তফা নূরউদ্দিন আহম্মেদকে অনতিবিলম্বে নিজ দায়িত্ব ও পদ থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা জোনায়েদ কবীর সোহাগ জানান, নাগরিক ও ব্যবসায়ী সেবা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে যে কোনো ধরনের অসদাচরণ, আর্থিক অনিয়ম কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আপসহীন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শোকজের আনুষ্ঠানিক লিখিত জবাব যাচাই-বাছাই শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হবে।
রাজধানীর ব্যবসায়ী মহলের মতে, ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়া ব্যবসা পরিচালনার অন্যতম প্রাথমিক শর্ত। সেখানে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এ ধরনের অনিয়ম ও হয়রানি ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় ও জটিলতা বৃদ্ধি করে। মতবিনিময় সভায় তাৎক্ষণিক এমন শাস্তিমূলক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। তাদের প্রত্যাশা, সিটি করপোরেশনের এমন দৃশ্যমান পদক্ষেপের ফলে নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি বহুলাংশে হ্রাস পাবে।


