প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে নতুন পাঠ্যবই, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলের পরিকল্পনা

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় যুক্ত হচ্ছে নতুন পাঠ্যবই, শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেলের পরিকল্পনা

শিক্ষা ডেস্ক
আগামী ২০২৭ ও ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে নতুন চারটি পাঠ্যবই অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। আনন্দদায়ক এবং খেলাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এবং শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়নের লক্ষ্যে তাঁদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বেতনকাঠামো বা আলাদা পে-স্কেল প্রণয়নের বিষয়েও সরকারি পর্যায়ে জোরালো পরিকল্পনা চলছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘খেলায় খেলায় শিখি তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি জানান, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’—এই তিনটি বই যুক্ত করা হবে। পরবর্তীতে ২০২৮ সালে প্রথম শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ‘খেলাধুলা’ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। নতুন এই পাঠ্যবইগুলোর রূপরেখা চূড়ান্ত করা এবং শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক পর্যায় থেকেই আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। চতুর্থ শ্রেণিতে বর্তমানে যে ‘খেলায় খেলায় শিখি’ কার্যক্রমটি চলমান রয়েছে, তা পর্যায়ক্রমে প্রথম শ্রেণি থেকে কার্যকর করার প্রক্রিয়া চলছে। শিশু-কিশোরদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং তাদের নৈতিক বিকাশের মাধ্যমে সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার রাজধানীতে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়েও চিন্তাভাবনা করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের ক্রীড়া ও শিক্ষা সংস্কৃতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।
কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি উন্নত বিশ্বের শিক্ষাব্যবস্থার উদাহরণ টেনে বলেন, চীন ও জাপানের মতো দেশে পাঠ্যবইয়ের প্রতিটি অধ্যায়কে বিভিন্ন খেলার মাধ্যমে উপস্থাপনের যে সফল পদ্ধতি রয়েছে, তা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের কেবল মুখস্থ বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, খেলাভিত্তিক শিক্ষা পদ্ধতি কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জন্য শ্রেণিকক্ষের পাঠদান আনন্দময় ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।
শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকারের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানান, একটি উন্নত জাতি গঠনে শিক্ষকদের অবদান অনস্বীকার্য। তাদের যথাযথ মূল্যায়ন ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার নতুন বেতনকাঠামো বা স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। শিক্ষকদের জন্য এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা খাতের সামগ্রিক গুণগত মান ও পেশাদারিত্ব আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
নতুন এই পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত হলে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের সূচনা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, খেলাভিত্তিক শিক্ষার প্রসারে এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মেধার উন্মেষ ও মননশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। একইসঙ্গে শিক্ষকদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা বা স্বতন্ত্র পে-স্কেল প্রবর্তনের বিষয়টি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে তা শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জাতীয় শিক্ষা শীর্ষ সংবাদ