সারাদেশ ডেস্ক
চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন আতুরের ডিপো এলাকায় বকেয়া বেতন পরিশোধসহ বিভিন্ন দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বুধবার সকালে ‘ইত্যাদি জিন্স’ নামের ওই পোশাক কারখানার কয়েকশ শ্রমিক সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সকালের ব্যস্ত সময়ে কর্মস্থলগামী মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বুধবার সকাল থেকে ইত্যাদি জিন্স কারখানার শ্রমিকরা কারখানার সামনে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তারা কারখানার সামনের প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং বকেয়া পাওনা আদায়ের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। ব্যস্ততম এই সড়কে আকস্মিক অবরোধের ফলে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগামী মানুষকে দীর্ঘক্ষণ গাড়িতে বসে থাকতে হয় এবং অনেকে বাধ্য হয়ে হেঁটেই গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
বিক্ষোভরত শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাদের নিয়মিত মাসিক বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে না কারখানা কর্তৃপক্ষ। একাধিকবার বকেয়া পাওনা পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ নির্ধারিত সময়ে তা বাস্তবায়ন করেনি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির এই সময়ে মাসের পর মাস বেতন বকেয়া থাকায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘরভাড়া, পরিবারের খাদ্য সংস্থান ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে না পেরে চরম আর্থিক সংকটের মুখে তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শ্রমিক প্রতিনিধিরা জানান, তারা অবিলম্বে তাদের সম্পূর্ণ বকেয়া বেতন ও প্রযোজ্য অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পরিশোধের দাবি জানাচ্ছেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ লিখিত ও গ্রহণযোগ্য সমাধান না দেওয়া পর্যন্ত তাদের এই অসন্তোষ কাটবে না। দ্রুত দাবি মেনে না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের একাধিক দল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং প্রধান সড়কে আটকে থাকা যানবাহন চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি করতে কাজ শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম জানান, বকেয়া বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও চলমান অচলাবস্থা নিরসনে কারখানা মালিকপক্ষ এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানোর সার্বিক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেও নিয়মিত মজুরি পরিশোধ না করায় প্রায়শই এমন অসন্তোষের ঘটনা ঘটছে। সময়মতো শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করা হলে শিল্প এলাকায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ জনজীবনেও বিরূপ প্রভাব পড়ে। শ্রম সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার আর্থিক ব্যবস্থাপনা স্বচ্ছ রাখা এবং শ্রম অধিদপ্তরের নজরদারি আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।


