জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটারের মাতৃবিয়োগ

জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটারের মাতৃবিয়োগ

স্পোর্টস ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক ডানহাতি পেসার শফিউল ইসলামের মা ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে আটটায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় শফিউল ইসলাম নিজেই তাঁর মায়ের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল সাড়ে আটটার দিকে তাঁর মা মৃত্যুবরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। শফিউলের পারিবারিক এই শোকের খবরে ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সাবেক সতীর্থ, ক্রিকেট অনুরাগী এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
বগুড়ার সন্তান শফিউল ইসলাম এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে একজন নির্ভরযোগ্য পেসার হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন। ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অভিষেক হয়। একই বছর ভারতের বিপক্ষে টেস্ট এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেও তাঁর অভিষেক ঘটে। এরপর থেকে লাল-সবুজের জার্সিতে পেস বোলিং আক্রমণের অন্যতম ভরসা হয়ে ওঠেন তিনি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ দলের হয়ে শফিউল মোট ১১টি টেস্ট, ৬০টি একদিনের আন্তর্জাতিক (ওয়ানডে) এবং ২০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। তিন সংস্করণ মিলিয়ে তিনি শিকার করেছেন সর্বমোট ১০৭টি আন্তর্জাতিক উইকেট। এর মধ্যে ওয়ানডে ফরম্যাটে ৭০টি, টেস্টে ১৭টি এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ২০টি উইকেট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। নিয়ন্ত্রণ ও সুইং নির্ভর বোলিংয়ের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ প্রশংসিত ছিলেন।
শফিউলের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হয় ২০১১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ঘরের মাঠে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জয়ের জন্য ২২৮ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৬৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন নিশ্চিত পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে, তখন ৯ নম্বর ব্যাটার হিসেবে ক্রিজে আসেন শফিউল। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে নবম উইকেটে গড়েন অবিচ্ছিন্ন ৫৮ রানের ম্যাচজয়ী এক জুটি। সেই ম্যাচে চাপের মুখে ২৪ বলে অপরাজিত ২৪ রানের সাহসী ইনিংস খেলে বাংলাদেশকে স্মরণীয় ২ উইকেটের জয় উপহার দেন তিনি।
দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তিনি সব ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাদার ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন। জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল), বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবং জাতীয় ক্রিকেট লিগেও (এনসিএল) তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। মায়ের মৃত্যুতে শফিউল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমার জানাজা ও দাফনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।
খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ