অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্ট করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রতি নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে হালনাগাদ কাজের বৈধ অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট থাকা সাপেক্ষে ‘এ-৩’সহ অন্যান্য এমপ্লয়মেন্ট ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা দেশের যেকোনো ব্যাংকে সহজেই হিসাব খুলতে পারবেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে। ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা সেবা বিভাগ গত ২৯ এপ্রিল জারি করা এক পরিপত্রে বাংলাদেশে ‘এ-৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের বেতন-ভাতা আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে গ্রহণের বিষয়টি স্পষ্ট করেছিল। বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী, ‘এ-৩’ ভিসা ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশিদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ থেকে ওয়ার্ক পারমিট গ্রহণ এবং তা নিয়মিত নবায়ন করতে হয়। উক্ত ওয়ার্ক পারমিটের অন্যতম প্রধান শর্তই হলো তাদের অর্জিত বেতন ও ভাতাদি ব্যাংকিং চ্যানেলে গ্রহণ করা।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, যেহেতু ‘এ-৩’সহ অন্যান্য এমপ্লয়মেন্ট ভিসা ক্যাটাগরির বিদেশি কর্মীদের বৈধ আর্থিক লেনদেন ও নিয়মিত পারিশ্রমিক প্রাপ্তির জন্য ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার বাধ্যতামূলক, সেহেতু তাদের ব্যাংক হিসাব খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করা প্রয়োজন। যেসব বিদেশি কর্মীর বৈধ ও হালনাগাদ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে এবং গ্রাহক পরিচিতি সংক্রান্ত প্রচলিত ‘নো ইয়োর কাস্টমার’ (কেওয়াইসি) নীতিমালা যথাযথভাবে পরিপালন করা হবে, তাদের হিসাব খোলার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, বহুজাতিক কোম্পানি ও বেসরকারি খাতে কর্মরত বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আর্থিক লেনদেন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থার আওতায় আরও সুসংহত হবে। এর মাধ্যমে অনানুষ্ঠানিক পথে অর্থ লেনদেনের ঝুঁকি হ্রাস পাবে এবং দেশের রাজস্ব আহরণ ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমে আসায় দেশে বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষ জনশক্তির কর্মপরিবেশ আরও অনুকূল হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


