বিনোদন ডেস্ক
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ দিন পর নতুন করে আইনি ও তদন্ত তৎপরতা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকাই সিনেমার অন্যতম শীর্ষ অভিনেত্রী শাবনূরের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা সর্বসাধারণ ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে তিনি লেখেন, ‘মিথ্যা সাময়িক, কিন্তু সত্য চিরস্থায়ী।’ পাঁচ শব্দের এই বার্তায় তিনি কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রসঙ্গের উল্লেখ না করলেও সামগ্রিক ঘটনার সমসাময়িক প্রেক্ষাপট একে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সময় তদন্ত ও পারিপার্শ্বিক আলোচনায় বারবার অভিনেত্রী শাবনূরের নাম উঠে এসেছে। যদিও শুরু থেকেই তিনি এ সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ ও গুঞ্জন কঠোরভাবে অস্বীকার করে আসছেন। সম্প্রতি সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন আইনি পদক্ষেপের কারণে জনপরিসরে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই প্রকাশিত শাবনূরের এই ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে। তবে এই পোস্টের সুনির্দিষ্ট অর্থ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে অভিনেত্রী নিজে পরবর্তীতে আর কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেননি।
মামলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত খল-অভিনেতা ডন হককে গত সপ্তাহে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পরবর্তীতে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
আদালতের শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী সাংবাদিকদের জানান, ডনের পূর্বে প্রদত্ত জবানবন্দিতে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনার দিন ফ্ল্যাটে সামিরা, আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ আরও কয়েকজনের উপস্থিত থাকার তথ্য উল্লেখিত রয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে সালমান শাহকে প্রথমে ক্লোরোফর্ম দিয়ে অচেতন করা, পরবর্তীতে ইনজেকশন প্রয়োগ করা এবং মৃত্যুর পর মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবৃত রয়েছে। এছাড়া ঘটনায় ব্যবহৃত দড়িটি ডন নিজে বহন করে ঘটনাস্থলে নিয়ে এসেছিলেন বলেও রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হয়।
নব্বইয়ের দশকের অন্যতম সফল এই জুটির সম্পর্ক নিয়ে সে সময় নানা গুঞ্জন থাকলেও শাবনূর বরাবরই দাবি করেছেন যে তাদের মধ্যকার পেশাদার সম্পর্কের বাইরে ব্যক্তিগত সম্পর্কটি ছিল ভাই-বোনের মতো। সম্প্রতি সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীও এক বক্তব্যে বিষয়টি সমর্থন করে জানান, তার ছেলে শাবনূরকে নিজের বোনের মতোই স্নেহ করত।
১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন সালমান শাহ। পরবর্তীতে ‘তুমি আমার’ চলচ্চিত্রে শাবনূরের সঙ্গে তার অন-স্ক্রিন জুটি গড়ে ওঠে, যা দর্শকদের মাঝে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা পায়। মাত্র চার বছরের অভিনয়জীবনে ২৭টি চলচ্চিত্রে কাজ করেন সালমান শাহ, যার মধ্যে ১৪টিতেই তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাবনূর।
এই জুটির উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে ‘সুজন সখী’, ‘বিচার হবে’, ‘বিক্ষোভ’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘মহামিলন’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘জীবন সংসার’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘প্রেম পিয়াসী’, ‘স্বপ্নের নায়ক’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’। বাণিজ্যিকভাবে সফল এসব চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তারা এক অনন্য অধ্যায় সৃষ্টি করেছিলেন।
সালমান শাহর অপমৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড—এই রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি দীর্ঘ তিন দশক ধরে চলচ্চিত্রপ্রেমী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে। নতুন করে আইনি অগ্রগতি ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের পর বিচার প্রক্রিয়া কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সংশ্লিষ্ট সকলেই সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন।


