আইন ও আদালত ডেস্ক
কারাবন্দি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি তার স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজায় অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় প্রিজন ভ্যানে করে তাকে রাজধানীর কলাবাগানের বাসভবনের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগার সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে ডা. দীপু মনির পরিবার জেলা প্রশাসক বরাবর প্যারোলে মুক্তির আনুষ্ঠানিক আবেদন জানান। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে তাকে ১২ ঘণ্টার জন্য মুক্তি দেয়। নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পর কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে তাকে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হবে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন। রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কারাগার থেকে মুক্তির পর মরহুমের মরদেহ প্রথমে রাজধানীর কলাবাগানের বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বাসভবনটির সঙ্গে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত স্মৃতির গভীর সংযোগ রয়েছে। এরপর মরদেহ গুলশানের আজাদ মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর মরদেহ বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এই জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ায় পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং ঘনিষ্ঠ শুভানুধ্যায়ীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর গত বছরের আগস্ট মাসে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে ডা. দীপু মনিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আটক করে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন থানায় দায়েরকৃত একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচার প্রক্রিয়াধীন অবস্থায় মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে রাখা হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি কারাবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন, তবে মানবিক ও পারিবারিক আবেগের দিকটি বিবেচনা করে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে এই সীমিত সময়ের জন্য প্যারোল সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।


