বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী আজ, রায়পুরায় নানা কর্মসূচি

বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী আজ, রায়পুরায় নানা কর্মসূচি

জাতীয় ডেস্ক
আজ ২০ আগস্ট, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি বিমানঘাঁটি থেকে একটি যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে সিন্ধু প্রদেশের ভারতীয় সীমান্তের কাছে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে। দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে রায়পুরায় অবস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের স্মৃতিসৌধ ও ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। এছাড়া তার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল, কুরআনখানি এবং জীবন ও কর্মের ওপর স্মৃতিচারণমূলক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ১৯৪১ সালের ২৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আগা সাদেক রোডে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈতৃক নিবাস নরসিংদী জেলার রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে, যা পরবর্তীতে তার নামানুসারে ‘মতিউর নগর’ নামে পরিচিতি পায়। তার পিতা মৌলভী আবদুস সামাদ এবং মাতা সৈয়দা মোবারকুন্নেসা খাতুন। পিতা-মাতার ১১ সন্তানের মধ্যে মতিউর রহমান ছিলেন ষষ্ঠ।
তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের সারগোদায় অবস্থিত পাকিস্তান বিমান বাহিনী পাবলিক স্কুলে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রথম বিভাগে মেট্রিকুলেশন সম্পন্ন করেন।
১৯৬১ সালের আগস্টে মতিউর রহমান পাকিস্তান বিমান বাহিনীতে জিডি পাইলট হিসেবে যোগদান করেন। কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৬৩ সালে তিনি রিসালপুর পিএএফ একাডেমি থেকে কমিশন লাভ করেন এবং মৌরিপুর বিমানঘাঁটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সুপারসনিক মিগ-২১ ও এফ-৮৬ সেবর জেটসহ বিভিন্ন সামরিক বিমান পরিচালনায় বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি মাতৃভূমির মুক্তির জন্য সক্রিয় ভূমিকা পালনের সিদ্ধান্ত নেন। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের করাচির মাসরুর বিমানঘাঁটিতে অবস্থানকালে তিনি একটি সামরিক বিমান ছিনতাই করে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত বিমান বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা প্রণয়ন করেন।
১৯৭১ সালের ২০ আগস্ট সকালে নবীন পাইলট অফিসার রাশিদ মিনহাজকে নিয়ে টি-৩৩ ব্লু বার্ড প্রশিক্ষণ বিমানে উড্ডয়ন করেন মতিউর রহমান। উড্ডয়নের পরপরই তিনি বিমানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারতের দিকে যাত্রা শুরু করেন। নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ভারতীয় সীমান্ত থেকে মাত্র ৩৫ মাইল দূরে সিন্ধু প্রদেশের থাট্টা জেলার জিন্দা গ্রামের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এতে মতিউর রহমান ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
পরবর্তীতে পাকিস্তান সরকার তাকে করাচির মাশরুর বিমানঘাঁটির চতুর্থ শ্রেণির কবরস্থানে সমাহিত করে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ২০০৬ সালের জুনে বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং পূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও সামরিক মর্যাদায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে পুনঃসমাহিত করা হয়।
দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা অর্জনে বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের অদম্য সাহস এবং সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ বাংলাদেশের সামরিক ও জাতীয় ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ