শিক্ষা ডেস্ক
দেশের এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম অনলাইনে শুরু হতে বিলম্ব হওয়ায় অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে হার্ডকপিতে ম্যানুয়াল আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার পুরোপুরি প্রস্তুত ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষকরা এই সুযোগ পাবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করেছে।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নিজ জেলা ও পরিবার-পরিজন থেকে দূরে অবস্থান করার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছিলেন। শিক্ষকদের এসব বাস্তব সংকট নিরসন এবং শিক্ষাব্যবস্থায় গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছ ও সুষম বদলি নিশ্চিতের লক্ষ্যে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (মাদ্রাসা) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করে সরকার। উক্ত নীতিমালার আওতায় সারা দেশের এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং মানবিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতার আওতায় সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তবে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বাস্তবায়নাধীন স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল সফটওয়্যারটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রস্তুত ও কার্যকর হয়নি। কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় চলতি সময়ে অনলাইনে বদলি আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়নি। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নিজ এলাকায় বদলির প্রত্যাশায় থাকা বিপুলসংখ্যক শিক্ষক চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের দুর্ভোগ ও মানবিক দিক বিবেচনা করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে সরাসরি হার্ডকপিতে আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সরকারি নির্দেশনা অনুসারে, শিক্ষক বদলি নীতিমালার ৩.১৯ বিধি মোতাবেক জনস্বার্থে শূন্য পদের বিপরীতে শিক্ষকদের কাছ থেকে আবেদন গ্রহণ করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান শূন্য পদের সঠিক তথ্য যাচাইপূর্বক শিক্ষকরা নির্ধারিত ফরমে আবেদন জমা দেবেন। পরবর্তীতে প্রাপ্ত এসব আবেদন যথাযথ নিয়মে যাচাই-বাছাই করে একটি সুনির্দিষ্ট ছকে বদলির প্রস্তাব তৈরি করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদনসমূহ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাইয়ের পর সেই বদলি প্রস্তাব আগামী ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে পাঠাতে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে সুস্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাব পাঠানোর পর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে বদলির চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ একটি সাময়িক ও অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। সফটওয়্যার উন্নয়নের কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারটি পুরোপুরি প্রস্তুত ও চালু হওয়ার সাথে সাথে ম্যানুয়াল পদ্ধতি বাতিল হয়ে যাবে এবং নীতিমালা অনুসারে সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সকল বদলি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে প্রক্রিয়াটি আরও দ্রুত ও ত্রুটিমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।


