অপরাধ ডেস্ক
রাজধানীর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনের লক্ষ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন থানায় মোট ৫৫টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য, চোরাই যানবাহন, স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ অপরাধে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম।
বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী জানান, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে ডিএমপির সবকটি অপরাধ বিভাগ এবং গোয়েন্দা শাখা একযোগে এই অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় বিভিন্ন অপরাধে সংশ্লিষ্টতার সুস্পষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। এই বিভাগে সর্বোচ্চ ১২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া গুলশান বিভাগে ৯৩ জন, ওয়ারী বিভাগে ৬৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৬৩ জন, মতিঝিল বিভাগে ৪৭ জন, লালবাগ বিভাগে ৪৫ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৪১ জন এবং রমনা বিভাগ থেকে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। একই সময়ে মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) বিশেষ টিম ৭ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ মালামাল ও আলামত জব্দ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে অপরাধে ব্যবহৃত দুটি ধারালো সুইচ গিয়ার। মাদকবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে ২৭ কেজি ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ২৩১ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫ গ্রাম হেরোইন।
চোরাই ও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দের তালিকায় রয়েছে একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী ‘এনা’ বাস, একটি ট্রাক এবং ১৭টি মোটরসাইকেল। এছাড়া উদ্ধারকৃত সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ৮টি মোবাইল ফোন, ৫৯৭ দশমিক ৭৩ গ্রাম সাধারণ স্বর্ণালংকার, ৪ ভরি ১৫ আনা ৫ রতি চোরাই স্বর্ণালংকার এবং নগদ ২ লাখ ৬৭ হাজার চোরাই টাকা। একই অভিযানে পুলিশ অপহৃত বা আটকে রাখা দুজন ভিকটিমকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির এই ধরনের সমন্বিত ও সাঁড়াশি অভিযান নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পেশাদার অপরাধী, মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী ও চোরাই চক্রের সক্রিয় সদস্যরা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি ও সংশ্লিষ্ট আইনের বিভিন্ন ধারায় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তাদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য হিসেবে বিজ্ঞ আদালতের কাছে উপস্থাপন করা হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।


