অপরাধ ডেস্ক
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে মোট ৪৬টি মামলা দায়ের করা হয়। অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের পাশাপাশি অপহৃত দুই ভিকটিমকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তালিকাভুক্ত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ডিএমপির বিভিন্ন অপরাধ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের আওতায় সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে মিরপুর বিভাগ থেকে। এ বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া তেজগাঁও বিভাগে ৬৭ জন, ওয়ারী ও উত্তরা বিভাগে ৫০ জন করে, লালবাগ বিভাগে ৪৫ জন, মতিঝিল বিভাগে ৩৬ জন, গুলশান বিভাগে ৩১ জন এবং রমনা বিভাগ এলাকা থেকে ২৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ তদন্ত ও সমন্বিত তৎপরতার অংশ হিসেবে গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারকৃতদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে রয়েছে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, ছয় রাউন্ড তাজা গুলি, একটি গ্রেনেড, একটি তলোয়ার ও একটি ছোরা। এছাড়া অপরাধের মাধ্যমে সংগৃহীত বা অপরাধকাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, নয়টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৩ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। একই অভিযানে বিশেষ পরিস্থিতিতে আটকে পড়া দুজন ভিকটিমকেও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।
মাদকবিরোধী তৎপরতার অংশ হিসেবে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য। এর মধ্যে রয়েছে ১২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা, ৩৯ হাজার ১২৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৩.২ গ্রাম গুঁড়া ইয়াবা। মাদক চোরাচালান চক্রের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ডিএমপি সূত্রে জানানো হয়েছে, মহানগরীর জননিরাপত্তা বজায় রাখা, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দমন এবং মাদক কারবারিদের শিকড় উপড়ে ফেলতে রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকায় একযোগে এ সমন্বিত অভিযান চালানো হয়। উদ্ধারকৃত অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকের উৎস শনাক্ত করতে বিশেষ অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করার প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছে ডিএমপি প্রশাসন। একই সঙ্গে নগরবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং অপরাধমূলক তৎপরতা প্রতিরোধে এই বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


