খেলাধুলা ডেস্ক
বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসির প্রত্যাবর্তনের পরও মাঠের ফুটবলে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামি। পারিবারিক বিরতি শেষে মেসির দলে ফেরার পর ক্লাবটির সামগ্রিক পারফরম্যান্সে বড় ধরনের ছন্দপতন লক্ষ্য করা গেছে। চলতি আগস্ট মাসে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৭টি ম্যাচ খেলে মাত্র একটিতে জয় তুলে নিতে পেরেছে ডেভিড বেকহামের সহ-মালিকানাধীন দলটি।
মেসির উপস্থিতি সত্ত্বেও খেলা সর্বশেষ চারটি ম্যাচে জয়হীন রয়েছে মায়ামি। এর মধ্যে তিনটিতেই হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছে তাদের। টরন্টো এফসি, ন্যাশভিল এসসি এবং মেক্সিকান ক্লাব লিওনের বিপক্ষে পরাজিত হওয়ার পাশাপাশি ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র করেছে তারা। চলতি মাসে ফ্লোরিডার ক্লাবটির একমাত্র জয়টি এসেছে মেক্সিকান লিগের তলানির দিকের দল আতলেতিকো সান লুইসের বিপক্ষে। অথচ এর আগে মেসির অনুপস্থিতিতে খেলা টানা দুটি ম্যাচেই পূর্ণ পয়েন্ট পেয়েছিল দলটি।
ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সংকট কাটিয়ে মাঠে ফেরা মেসির পারফরম্যান্সেও এর প্রভাব স্পষ্ট। বাবার প্রয়াণের কারণে লিগস কাপে মেক্সিকান ক্লাব মন্তেররেইয়ের বিপক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটিতে অংশ নিতে পারেননি তিনি। শোক কাটিয়ে মাঠে ফিরে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে দুটি গোল করতে সক্ষম হলেও দলকে কাঙ্ক্ষিত জয়ের ধারায় ফেরাতে পারেননি আর্জেন্টাইন মহাতারকা। চলতি মাসে অনুষ্ঠিত সাতটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতেই শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি।
সাম্প্রতিক এই ধারাবাহিক ব্যর্থতায় বড় ধরনের কৌশলগত ক্ষতির মুখে পড়েছে ইন্টার মায়ামির চলতি মৌসুমের লক্ষ্য। ক্লাব লিওন এবং মন্তেররেইয়ের কাছে টানা হারের ফলে লিগস কাপের প্রথম পর্ব থেকেই অপ্রত্যাশিতভাবে ছিটকে গেছে দলটি। একই সঙ্গে ঘরোয়া আসর মেজর লিগ সকারেও তাদের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে। গত জুলাই মাস পর্যন্ত এমএলএসের ইস্টার্ন কনফারেন্সের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকা ন্যাশভিলের চেয়ে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল মায়ামি। তবে আগস্টের ব্যর্থতার পর সেই ব্যবধান এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ পয়েন্টে, যা দলটিকে শিরোপার লড়াইয়ে অনেকটাই পিছিয়ে দিয়েছে।
মাঠের ফলাফলের পাশাপাশি সম্প্রতি শৃঙ্খলাজনিত বিতর্কেও জড়িয়েছেন মেসি। ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ম্যাচে প্রতিপক্ষের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার কুইন সুলিভানের সঙ্গে মাঠের ভেতর অনভিপ্রেত দ্বন্দ্বে জড়ান তিনি। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে শারীরিক সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হলে ম্যাচ শেষে বিষয়টি পর্যালোচনা করে এমএলএস ডিসিপ্লিনারি কমিটি। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে পরবর্তীতে মেসিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
বিশ্বসেরা এই ফুটবলারের উপস্থিতির পরও দলের এমন ধারাবাহিক অবনমন ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকদের মধ্যে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রক্ষণভাগের অসাবধানতা এবং আক্রমণভাগের দুর্বল ফিনিশিংয়ের কারণে মায়ামির সামনের ম্যাচগুলোর সমীকরণ ক্রমেই জটিল হচ্ছে। নিয়মিত মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ ধাপে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে বড় টুর্নামেন্টগুলোর নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া ক্লাবটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।


