সালমান শাহ হত্যা মামলা: খলনায়ক ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি, শুনানি বৃহস্পতিবার

সালমান শাহ হত্যা মামলা: খলনায়ক ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি, শুনানি বৃহস্পতিবার

অপরাধ ডেস্ক
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহকে (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়েছে মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আসামির উপস্থিতিতে এই রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডির পরিদর্শক মজিবুর রহমান এই রিমান্ড আবেদন পেশ করেন। শুনানি গ্রহণের জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা বৃহস্পতিবার দিন নির্ধারণ করেন। এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে বিদেশ গমনের চেষ্টাকালে বিমানবন্দর এলাকা থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে আটক করে। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে দাখিল করা রিমান্ড আবেদনে সিআইডি ডনকে হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের পেছনে তিনটি সুনির্দিষ্ট যুক্তি তুলে ধরেছে:
  • মামলার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের লক্ষ্যে আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
  • এজাহারভুক্ত আসামি ডন অত্যন্ত চতুর প্রকৃতির হওয়ায় তাকে হেফাজতে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান ও তথ্য সংগ্রহ করে তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
  • বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা সত্ত্বেও কার ইন্ধনে এবং কোন কৌশলে তিনি দেশত্যাগের চেষ্টা করছিলেন, সেই সংক্রান্ত তথ্য উদঘাটন করা জরুরি।
মামলার পটভূমি ও আইনি প্রক্রিয়া
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহের রহস্যজনক মৃত্যুর পর রাজধানীর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় পর বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত মামলাটিকে নিয়মিত হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের পর গত বছরের ২১ অক্টোবর সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে রমনা থানায় দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে সালমান শাহের স্ত্রী সামিরা হক, সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ, লতিফা হক লুছি, আশরাফুল হক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, বিউটি পার্লারের কর্মী রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ফরহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
এজাহারের বিবরণ
বাদী মোহাম্মদ আলমগীর মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহের মা নিলুফার জামান চৌধুরী (নীলা চৌধুরী), বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমানের সঙ্গে দেখা করতে যান। সে সময় জানানো হয় সালমান ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজারের ফোন পেয়ে স্বজনরা দ্রুত ফিরে এসে সালমানকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। ওই সময় বহিরাগত কয়েকজন নারী তার শরীরে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে এক আত্মীয় উপস্থিত ছিলেন।
তাৎক্ষণিকভাবে সালমান শাহকে উদ্ধার করে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে স্বজনরা তার গলায় দাগ এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন প্রত্যক্ষ করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়।
সালমান শাহের পিতা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী জীবিত থাকাকালে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানিয়েছিলেন। তার মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি লড়াই অব্যাহত রাখা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় তদন্ত সংস্থা এখন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে তৎপর রয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রিমান্ড মঞ্জুর হলে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত এই মামলার অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতে পারে।
আইন আদালত শীর্ষ সংবাদ