জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা: দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজারের বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী অক্টোবর মাসেই বিমানবন্দরটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল পুরোপুরি চালু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে।
সোমবার সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালু হলে সেখানে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে একাধিক বিদেশি উড়োজাহাজ সংস্থা এই রুটে তাদের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু করতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক রূপ দেওয়ার এ উদ্যোগকে দেশের পর্যটন ও অর্থনৈতিক খাতের জন্য একটি কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে আন্তর্জাতিক আকাশপথের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের যাতায়াত সহজতর হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এদিকে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর অগ্রগতির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এই আধুনিক টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। টার্মিনালটির পরিচালন ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করতে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
তৃতীয় টার্মিনালটি চালু হলে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক মানের লাগেজ হ্যান্ডলিং ও বোর্ডিং সুবিধার মাধ্যমে যাত্রীদের সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় গতি আসবে। এতে আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী যাত্রী ও বাণিজ্যিক এয়ারলাইন্সগুলোর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমে আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ নতুন দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রীর সফলতা কামনা করেন এবং দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন অবকাঠামোর ধারাবাহিক উন্নয়ন বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


