পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান

পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মার্কিন বিনিয়োগের আহ্বান

জাতীয় ডেস্ক
বাংলাদেশে পানি সরবরাহ, টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বিনিয়োগ করতে মার্কিন ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সরকার। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সোমবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। নবগঠিত মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধির এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক মতবিনিময়। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতি, নতুন সরকারের উন্নয়ন নীতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বিগত ছয় মাসে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত বিভিন্ন নীতিমালার বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে মার্কিন কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতার সম্ভাব্য খাতগুলো চিহ্নিত করা হয়। বিশেষ করে দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়নের ফলে তৈরি হওয়া বর্জ্য ও জ্বালানি সংকট নিরসনে যৌথ অংশীদারত্বকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, বিশেষ করে ‘ওয়েস্ট টু এনার্জি’ বা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তি। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও পৌরসভায় বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য মজুত রয়েছে, যা পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এই বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে কার্যকর ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ইতিমধ্যে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় আগামী ১৮ থেকে ২০ মাসের মধ্যে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। একই আদলে আমেরিকান বিনিয়োগকারীদেরও পিপিপি মডেলের আওতায় নতুন প্রকল্পে অংশগ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়া মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ প্রস্তাবগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সচিব পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণের আশ্বাস দেন।
দুই দেশের বাণিজ্যিক চুক্তির সম্ভাব্যতা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, শুল্ক বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলো পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত। তবে স্থানীয় সরকার কাঠামোর টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ, নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি প্রযুক্তির প্রসারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্ব আগামীতে আরও সুসংহত হবে।
জাতীয় শীর্ষ সংবাদ