এশিয়ান গেমসে কেবল অংশ নেওয়া নয়, পদক জয়ের মানসিকতা তৈরির নির্দেশ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

এশিয়ান গেমসে কেবল অংশ নেওয়া নয়, পদক জয়ের মানসিকতা তৈরির নির্দেশ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

খেলাধুলা ডেস্ক
আসন্ন ২০তম এশিয়ান গেমস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশি অ্যাথলেটদের নিবিড় প্রশিক্ষণ, সার্বিক প্রস্তুতি এবং অংশগ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কেবল অংশগ্রহণমূলক মানসিকতা পরিহার করে পদক অর্জনের লক্ষ্যে দল গঠনের জন্য ফেডারেশনগুলোকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সভাকক্ষে এই পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ফেডারেশন, অ্যাসোসিয়েশন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
যোগ্যতাভিত্তিক দল গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ
সভায় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হলে পারফরম্যান্সভিত্তিক দল নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, মেধা, যোগ্যতা ও সাম্প্রতিক ফর্মের ভিত্তিতেই সেরা খেলোয়াড়দের এশিয়ান গেমসের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা দিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যাতে কোনো যোগ্য ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় বঞ্চনার শিকার না হন, সে বিষয়ে ফেডারেশন কর্তাদের সতর্ক করা হয়।
প্রতিযোগিতায় টেকসই সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে স্বল্পমেয়াদি প্রস্তুতির পরিবর্তে স্থায়ী ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ডিসিপ্লিনে দীর্ঘমেয়াদে যোগ্য ও পেশাদার কোচ নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
অফিসিয়ালদের ভূমিকা ও ভ্রমণ স্বচ্ছতা
এশিয়ান গেমসে বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের জন্য প্রস্তাবিত দলের আকার, খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার অনুপাত এবং তাদের অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। প্রতিটি ফেডারেশনকে তাদের দলের সদস্যসংখ্যা ও ভ্রমণসূচির সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
দল গঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক পদের অসঙ্গতি নিয়ে সভায় গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে শুটিং ফেডারেশনের একজন কর্মকর্তাকে ক্যাম্প ডিরেক্টর হিসেবে মনোনীত করার পর তালিকায় তাকে পিস্তল কোচ হিসেবে উপস্থাপন করার বিষয়টির তীব্র সমালোচনা করা হয়। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বা কর্মকর্তাদের কোচ পরিচয়ে বিদেশ সফরের এই প্রবণতাকে অনভিপ্রেত ও অনৈতিক বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, সারা বছর যে প্রশিক্ষক খেলোয়াড়দের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, কেবল তাঁকেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় কোচের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হবে। খেলাধুলার সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সকল প্রকার আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
স্টেডিয়ামপাড়ার পরিবেশ উন্নয়ন ও যৌথ উদ্যোগ
খেলোয়াড়দের মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশের ক্রীড়া স্থাপনাগুলোর সার্বিক পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকা এবং কমলাপুর স্টেডিয়াম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, একাধিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ, মোবাইল কোর্ট ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও ক্রীড়াঙ্গনের পরিবেশ এখনও পুরোপুরি শৃঙ্খলায় ফেরেনি। এমনকি কিছু অসাধু ব্যক্তির অপতৎপরতার কারণে ক্রীড়া পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
প্রশাসনিক দায়িত্ব কেবল দাপ্তরিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ফেডারেশন ভবন ও সংলগ্ন প্রাঙ্গণ খেলাধুলার উপযুক্ত রাখা সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কমিটির নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়। দেশের জেলা পর্যায়ের স্টেডিয়ামগুলোসহ সকল ক্রীড়া স্থাপনাকে সত্যিকারের ক্রীড়াবান্ধব করে গড়ে তুলতে ক্রীড়া কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন এবং সাংবাদিকদের সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
খেলাধূলা শীর্ষ সংবাদ