আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কারাবন্দি দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের যথাযথ চিকিৎসা ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তার সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ। সাম্প্রতিক সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতির খবরের মধ্যে ব্রিটিশ সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি এই হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেমিমা গোল্ডস্মিথ উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি কার্যকর করা হচ্ছে না। তিনি পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলার পাশাপাশি ইমরান খানের সুচিকিৎসা পাওয়ার অধিকার, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দীর্ঘসময়ের বন্দিদশার অবসান ঘটানোর দাবি জানান। পাশাপাশি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সরাসরি প্রশ্ন রেখে তিনি জানতে চান যে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্য আর কতদিন নীরব থাকবে।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সুচিকিৎসার জন্য তাকে একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে তার চিকিৎসা নেওয়ার কথা থাকলেও তাকে সরকারি ব্যবস্থাপনায় অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘিত হয়েছে দাবি করে পিটিআইয়ের পক্ষ থেকে শীর্ষ আদালতে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সাল থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেট অধিনায়ক ও প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘমেয়াদি এই কারাবাস এবং তার চিকিৎসাসেবা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের ওপর নানামুখী নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি নিয়ে এর আগেও আন্তর্জাতিক মহলে এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে নানা উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, কারাবন্দি রাজনীতিবিদের সুচিকিৎসা এবং আইনি অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বর্তমানে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।


