আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ফোনালাপে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তেহরান সফর করার ঠিক আগে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ অনুষ্ঠিত হয়, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপের পর সোমবার ইরানের রাজধানী তেহরানে পৌঁছান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। এই সফরে তিনি ইরানের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন। পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হয়। তেহরানে পৌঁছানোর পর মুনির ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করা হয়। মোহসেন রেজায়ি মন্তব্য করেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে তার বর্তমান আচরণ পরিবর্তন করতে হবে এবং পূর্বের সমঝোতার শর্ত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় ইরানের কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। রেজায়ি জানান, চলতি বছরের জুনে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত হ্রাস এবং পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বিষয়ে কারিগরি আলোচনার সুযোগ তৈরির জন্য ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক প্রণয়ন করা হয়েছিল। উক্ত সমঝোতা স্মারক তৈরিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকেও মধ্যস্থতামূলক ভূমিকা পালন করা হয়েছিল।
এর আগে সোমবার তেহরানে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের সঙ্গেও বৈঠক করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান। সেই বৈঠকে গালিবাফ অভিযোগ করেন যে, জুনে স্বাক্ষরিত ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র বারবার নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন যে, চুক্তিতে প্রতিটি পক্ষের স্পষ্ট দায়িত্ব নির্ধারিত থাকলেও ওয়াশিংটনের অনীহার কারণে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে ইরানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে সকল প্রতিকূলতা ও বাহ্যিক চাপ সত্ত্বেও তেহরান এই সমঝোতা স্মারকের শর্ত বাস্তবায়নে নিজেদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানান ইরানি নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে ইসলামাবাদ তার মধ্যস্থতা ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের এই তেহরান সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ অঞ্চলটিতে পর্দার আড়ালে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।


