নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা: নিহত বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ শতাধিক পর্যটক

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যা: নিহত বেড়ে ১৬২, নিখোঁজ শতাধিক পর্যটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সংঘটিত ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণের ফলে সৃষ্ট এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অঞ্চলটির বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা চরমভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশি নাগরিকের পাশাপাশি এই বন্যায় বহুসংখ্যক বিদেশি পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।
নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আকস্মিক এই বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৬২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীরা তল্লাশি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এখনও চার শতাধিক পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। দেশটির পর্যটন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিখোঁজদের তালিকায় ভারত ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা রয়েছেন। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল হওয়ায় এবং যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ লাইন বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে উদ্ধার কার্যক্রমে বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
ভোটকোশী নদীর তীরবর্তী রসুয়া এবং নুয়াকোট জেলার জনবসতিগুলো এই বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের তোড়ে নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভেসে গেছে। এলাকাগুলো জনবিরল হওয়া সত্ত্বেও নেপাল ও চীনের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের জন্য এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বন্যায় এই অঞ্চলের বহুমুখী অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, প্রধান মহাসড়ক এবং বহু সেতু ধসে পড়ার কারণে নেপাল ও তিব্বতের মধ্যকার স্থলপথ যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে নেপাল সরকার দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই মর্মান্তিক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি এক বাণীতে উল্লেখ করেন, আকস্মিক এই দুর্যোগের ফলে পুরো জাতি স্তম্ভিত ও মর্মাহত। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধারে এবং জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে কোনো ধরনের বিলম্ব করা হচ্ছে না। সরকারের সমস্ত সম্পদ ও সক্ষমতা এই কার্যক্রমে নিয়োজিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমালয় অঞ্চলে আবহাওয়ার চরমভাবাপন্ন আচরণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এ ধরনের আকস্মিক বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। হিমবাহের হ্রদ ফেটে যাওয়া কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্ট এই ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় আঞ্চলিক পর্যায়ে আরও শক্তিশালী পূর্বাভাস ব্যবস্থা ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিচ্ছেন পরিবেশবিদরা। উদ্ধার কাজ সমাপ্ত হলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ