বাংলাদেশ ডেস্ক
ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বিশেষ বৈঠকে যোগ দিতে বর্তমানে সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থান করছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর।
আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় অনুযায়ী জেদ্দায় ওআইসির সদর দপ্তরে সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এই জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উক্ত বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু, আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
ওআইসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি ও মুসলিম উম্মাহর নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বিশেষ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন সংকটাপন্ন অঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরতে এবং ওআইসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে এই বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওআইসির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ বিশ্বমঞ্চে দেশের কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রভাব বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় সুযোগ। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্র প্রস্তুত করতেও এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করার কথা রয়েছে। সফর শেষে তার এই অংশগ্রহণ দেশের কূটনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ওআইসিভূক্ত দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


