সংঘাত এড়াতে চায় তেহরান, তবে যেকোনো আগ্রাসনের মুখে জোরালো জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি

সংঘাত এড়াতে চায় তেহরান, তবে যেকোনো আগ্রাসনের মুখে জোরালো জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুদ্ধ চায় না ইরান, তবে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের আগ্রাসনের মুখে তেহরান নিষ্ক্রিয় থাকবে না বলে स्पष्ट হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সোমবার সকালে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) ২৬তম শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তেহরান ছাড়ার প্রাক্কালে হযরত ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রপ্রধানের এমন বক্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরানের আনুষ্ঠানিক ও মৌলিক বৈদেশিক নীতির অবস্থান তুলে ধরে বলেন, তেহরান কখনোই যুদ্ধের পক্ষে নয় এবং আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক কোনো সংঘাতের বিস্তার ঘটাতে চায় না। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না। এটি একটি অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা, যা আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বারবার পৌঁছে দিয়েছি। তবে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন, দেশের ওপর কোনো প্রকার সামরিক বা কৌশলগত আগ্রাসন চালানো হলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। আগ্রাসনকারীদের উপযুক্ত ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে এই বিবৃতির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে নানামুখী ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং সামরিক উত্তাপ বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপরও পড়ছে। এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে পেজেশকিয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা সংলগ্ন অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা, যুদ্ধ পরিস্থিতি ও দীর্ঘস্থায়ী অশান্তি কোনো দেশের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে না। এই ধরনের সংকট বরং সংশ্লিষ্ট সব দেশের জন্যই নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। আঞ্চলিক অখণ্ডতা বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সব পক্ষকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) এই শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে ইরান আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বহুপক্ষীয় কূটনীতিকে জোরদার করার বার্তা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন ভূ-রাজনৈতিক চাপের মুখে এসসিও-র মতো গুরুত্বপূর্ণ ফোরামকে তেহরান তাদের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক প্রসারের একটি বড় মঞ্চ হিসেবে দেখছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে এবং আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এই সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্মেলনের মূল কার্যনির্বাহী অধিবেশনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ